সাক্ষ্য বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে খালেদা জিয়ার আবেদন
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাক্ষীর সাক্ষ্য বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
আজ সোমবার বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হতে পারে।
এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার প্যানেলের আইনজীবী ব্যারিস্টার এহসানুর রহমান এনটিভি অনলাইনকে বলেন, খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে মামলা দুটির সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী আসামির অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য গ্রহণের নিয়ম নেই। গত ২৫ মে এই সাক্ষ্য বাতিল চেয়ে আবেদন করলে বিশেষ জজ আদালত তা খারিজ করে দেন। এই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে গতকাল রোববার পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে শুনানির জন্য আদালতের কার্যতালিকায় এসেছে। আজ শুনানি হতে পারে।
এর আগে গত ২৫ মে মামলার বাদী ও প্রথম সাক্ষী দুদকের উপপরিচালক হারুনুর রশিদ সাক্ষ্য বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদার তা খারিজ করে পরবর্তী সাক্ষ্যের জন্য ১৮ জুন দিন নির্ধারণ করেন। ৫ মে নির্ধারিত দিনে মামলা দুটির সাক্ষ্য গ্রহণের অংশ হিসেবে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আংশিক সাক্ষ্য দেন সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ। ওই দিন খালেদা জিয়া আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। তাই তাঁর আইনজীবীরা সময় চেয়ে আবেদন করেন। আদালত এ আবেদন নামঞ্জুর করে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু করেন।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্যাস্টের নামে অবৈধভাবে আর্থিক লেনদেন ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাক্রমে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই ও ২০১১ সালের ৮ আগস্ট মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্ত শেষে মামলা দুটির অভিযোগগত্র দেওয়া হয়। অভিযোগ গঠনের আগে মামলা দুটি বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন খালেদা জিয়া। শুনানি শেষে আবেদন দুটি খারিজ করেন হাইকোর্ট। গত বছর ১৯ মার্চ খালেদা জিয়া ও তাঁর বড় ছেলে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত। অপর আসামিরা হলেন মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, খালেদা জিয়ার আমলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। অন্যদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াসহ আসামি চারজন। অপর তিনজন হলেন খালেদা জিয়ার তৎকালীন রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

জাকের হোসেন