‘ধর্ষণে’ বাকরুদ্ধ শিশুটি হারিয়েই গেল!
‘ধর্ষণের’ পর বাকরুদ্ধ ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ফারজানা আক্তার আড়াই মাস লড়ার পর হেরে গেছে। ১৩ বছরের ওই শিশুটি গতকাল শুক্রবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়।
ফারজানা উপজেলার কাউলীবেড়ার বাসিন্দা মৃত আলমগীর শেখের মেয়ে। সে কাউলীবেড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ত। এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার মামলার পর পুলিশ ধর্ষণের অভিযোগে একই এলাকার যুবক লিটন মাতুব্বরকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে।
মামলার বরাতে জানা যায়, গত ১০ জানুয়ারি কাউলীবেড়া গ্রামে নিজবাড়িতে শিশুটিকে একা পেয়ে ধর্ষণের পর রক্তাক্ত অবস্থায় রেখে চলে যায় বখাটে। পরে শিশুটির মা তাকে পার্শ্ববর্তী সদরপুরের একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসার পর অর্থের অভাবে ফারজানাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
এর কয়েক দিনের মধ্যে শিশুটি বাকশক্তি হারিয়ে ফেলে। অসুস্থ শিশুটিকে বাড়িতে নেওয়ার পর তার মা বিষয়টি এলাকার মোড়ল ও গ্রেপ্তার লিটনের পরিবারকে জানায়। বিষয়টি তাদের জানানোর পর শিশুর মাকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়।
এলাকাবাসী ও শিশুর পরিবারের সদস্যদের সূত্রে আরো জানা যায়, গত ২১ মার্চ রাতের বেলা শিশুটির বাড়িতে গ্রামের মোড়লদের নিয়ে একটি বৈঠক হয়। সেখান থেকে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। মোড়লরা আগে অসুস্থ শিশুটিকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বলেন। তখন এলাকাবাসী ১২ হাজার টাকা তুলে ২২ মার্চ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অসুস্থ ফারজানাকে ভর্তি করায়। ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে সবার মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অবশেষে শুক্রবার রাতে মারা যায় শিশুটি।
কিশোরীর চাচা কালাম শেখ বলেন, ‘আমার বড় ভাই এক বছর আগে মারা গেছেন। ভাবী বাজারে একটি চায়ের দোকানে ঝিয়ের কাজ করেন। তা দিয়েই চলত তাদের সংসার। ধর্ষণের ঘটনাটির পর আমি বাড়ি গিয়ে গ্রামের মোড়লদের বলি। পরে বাধ্য হয়ে ২৪ মার্চ ভাঙ্গা থানায় একটি অভিযোগ দেই।’
কালাম শেখ আরো বলেন, ‘ধর্ষণের ঘটনার পর ফারজানা বাকশক্তি হারিয়ে ফেলে। পরে চিকিৎসার অভাবে সে মারা যায়।’
কাউলীবেড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমার স্কুল থেকে ফারজানা পঞ্চম শ্রেণি থেকে পরীক্ষা দিয়েছে। শিক্ষকদের কাছ থেকে শুনেছি তাকে কোনো এক বখাটে যুবক ধর্ষণ করেছে।’
কাউলীবেড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসনাত দুদু মিয়া জানান, ‘গত চারদিন আগে ধর্ষণের বিষয়টি নিয়ে গ্রামে একটি বৈঠক হয়েছে। মেয়েটি অসুস্থ দেখে আমি তাৎক্ষণিক ১২ হাজার টাকা তুলে চিকিৎসার ব্যবস্থা করি।’
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আবদুল্লাহ বলেন, ‘ধর্ষণের বিষয়ে গতকাল শুক্রবার একটি মামলা হয়েছে। আমরা মেয়েটির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছি। ধর্ষণের অভিযোগে লিটনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর