‘পীর’ ইসাহাক ও ‘খাদেম’ সাইদুরের জবানবন্দি
দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলায় কথিত পীর ফরহাদ হোসেন চৌধুরী ও মুরিদ রূপালী বেগম হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আজ শুক্রবার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের বাঁশজানি গ্রামের কথিত পীর ইসাহাক আলী (৬০) এবং বোচাগঞ্জ উপজেলার দৌলা গ্রামের ফরহাদ হোসেন চৌধুরীর মোহাম্মদী কাদিরিয়া দরবার শরিফের ‘খাদেম’ সাইদুর রহমান জবানবন্দি দেন।
পরে সন্ধ্যা ৭টায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার হামিদুল আলম।
পুলিশ সুপার বলেন, ‘মতাদর্শের কারণে কথিত পীর ফরহাদ হোসেন চৌধুরীকে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে কথিত পীর ইসাহাক আলী ও খাদেম সাইদুরসহ ছয়জন অংশ নেন। তাঁরা বালিশ চেপে শ্বাস রোধ করে এবং পরে গুলি করে হত্যা করেন ফরহাদ হোসেন চৌধুরী ও তাঁর মুরিদ রূপালী বেগমকে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজ-জ্জামান আশরাফ, মিজান আহম্মেদসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গত সোমবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে দৌলাগ্রামের দরবার শরিফে কথিত পীর ফরহাদ হোসেন চৌধুরী (৬০) ও রূপালী বেগমকে (২৮) গলা কেটে ও গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ফরহাদ চৌধুরী দিনাজপুর পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি। তবে গত ৮-১০ বছর তিনি রাজনীতির বাইরে ছিলেন।
এরপর গত বুধবার কুড়িগ্রামের বাঁশজানি গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে কথিত পীর ইসাহাক আলী (৬০) এবং বোচাগঞ্জ উপজেলা থেকে ‘খাদেম’ সাইদুর রহমান ও ‘ভক্ত’ সুফিয়া বেগমকে আটক করা হয়।

ফারুক হোসেন, দিনাজপুর