রাজশাহী বিএনপিতে রিজভীর অনুগত ও বিতর্কিতরা কমিটিতে
ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে শুধু দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদের অনুগত ও পৃষ্ঠপোষকদের রাজশাহী মহানগর ও জেলা বিএনপির নতুন কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আজ বুধবার দুপুরে রাজশাহী নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে রাজশাহী বিএনপি রক্ষা কমিটি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়।
এ সময় বলা হয়, কেন্দ্র থেকে চাপিয়ে দেওয়া এই প্রেসক্রিপশন কমিটি দিয়ে রাজশাহীতে বিএনপির দুর্গ রক্ষা করা যাবে না। রাজশাহী মহানগর ও জেলা বিএনপির নতুন দুই কমিটি অবিলম্বে বাতিল করা না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে সংবাদ সম্মেলন থেকে হুঁশিয়ারি দেয় বিএনপি রক্ষা কমিটি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন রাজশাহী বিএনপি রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ও বোয়ালিয়া থানা বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমান পিন্টু।
সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্র-ঘোষিত নতুন দুই কমিটির নেতাদের সম্পর্কে বলা হয়, দীর্ঘদিন থেকে মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়, কর্মীবিহীন অযোগ্য ও চরিত্রহীন ব্যক্তিরা কমিটিতে স্থান পাওয়ায় স্থানীয় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে ব্যাপক হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। শুধু সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদের অনুগত ও পৃষ্ঠপোষক হওয়ায় বিতর্কিতদের মহানগর ও জেলার নেতৃত্বে আনা হয়েছে। বিগত দিনে আন্দোলনে মাঠে থাকা বা তাদের ওপর হামলা, মামলা ও নির্যাতনের কোনো উদাহরণ নেই। এ ছাড়া কমিটিতে বহিরাগতদের স্থান দিয়ে তাদের রাজশাহীর রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা করার অপচেষ্টা চলানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রংপুর অঞ্চলের কোনো ব্যক্তিকে রাজশাহীর রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করার সব অপচেষ্টা বিএনপি নেতাকর্মীরা কখনই মেনে নেবেন না।
বিতর্কিত ও বিএনপির রাজনীতিতে অপরিচিত মুখদের নিয়ে কমিটি করায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে দাবি করা হয়। সেই সঙ্গে বর্তমান কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি না দেওয়া পর্যন্ত দলের সব কেন্দ্রীয় কর্মসূচি রাজশাহী বিএনপি রক্ষা কমিটির নামে পালন করার ঘোষণা দেওয়া হয়। এ ছাড়া সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করে সম্মেলনের মাধ্যমে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামত নিয়ে রাজশাহী মহানগর ও জেলা বিএনপির কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিএনপি রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ও মহানগর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি নজরুল হুদা, নগরীর মতিহার থানা বিএনপির সভাপতি আনসার আলী, রাজপাড়া থানা বিএনপির সভাপতি শওকত আলী, শাহ মখদুম থানা বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান শরিফ, বোয়ালিয়া থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রবিউল আলম মিলু, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইট, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মোজাদ্দেদ জামানী সুমন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন দিলদার, নুরুজ্জামান টিটো, মো. টুটুল, বেলাল আহম্মেদ, মুসলিমা খাতুন বেলি, সামসুন্নাহার প্রমুখ।
সাত বছর পর গত ২৭ ডিসেম্বর কেন্দ্র থেকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে সভাপতি ও শফিকুল হক মিলনকে সাধারণ সম্পাদক করে মহানগর বিএনপির আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়া তোফাজ্জল হোসেন তপু ও মতিউর রহমান মন্টুকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা বিএনপির আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটিতে ঠাঁই হয়নি আগের কমিটির সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনুর। এ কারণে নবগঠিত কমিটি বাতিলের দাবিতে মিনুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত নেতাকর্মীরা কেন্দ্র থেকে কমিটি ঘোষণার পরপরই দলীয় কার্যালয়ে তালা দিয়ে লাগাতার কর্মসূচি পালন করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় কেন্দ্র-ঘোষিত কমিটি বাতিলের দাবিতে গত ১ জানুয়ারি ‘রাজশাহী বিএনপি রক্ষা কমিটি’ গঠন করেন তাঁরা।

শ. ম সাজু, রাজশাহী