ফোনে তালাকের কথা শুনেই স্ত্রীর ‘আত্মহত্যা’
স্বামী রাকিব হাসানের সঙ্গে বনিবনা হচ্ছিল না প্রিয়া খাতুনের। ছিলেন বাবার বাড়িতে। গতকাল রোববার স্বামী ফোন করে জানান, তালাক দেওয়া হয়েছে, তালাকনামা দু-একদিনের মধ্যেই পৌঁছে যাবে। এরপর রোববার রাতেই বাবার বাড়ি থেকে প্রিয়া খাতুনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার চেচুয়াখোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্বজনদের দাবি, তালাকের কথা শুনে প্রিয়া খাতুন আত্মহত্যা করেছেন। প্রিয়ার স্বামী রাকিব হাসান পুলিশের একজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)। তিনি ঢাকায় কর্মরত।
চলতি বছর প্রিয়া যশোর সরকারি মহিলা কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে (সম্মান) প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়েছিলেন।
আজ সোমবার সকালে প্রিয়ার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে বাঘারপাড়া থানার পুলিশ। এদিকে আজই এদিকে রাকিবের পাঠানো তালাকনামার কাগজ পৌঁছেছে বাঘারপাড়ায় প্রিয়ার বাবার বাড়িতে।
প্রিয়ার মামা বিপ্লব হোসেন জানান, বাঘারপাড়া উপজেলার সাইটখালী গ্রামের বাসিন্দা রাকিব হাসানের সঙ্গে প্রিয়ার বিয়ে হয় ২০১৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি। বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁর ওপর মানসিক নির্যাতন করতেন। মাস ছয়েক আগে প্রিয়ার পরিবারের লোকজন বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য রাকিবদের বাড়িতে যান। কিন্তু রাকিবের বাড়ির লোকজন তাঁদের অপমান করে প্রিয়াকে তাঁদের সঙ্গে পাঠিয়ে দেন। সেই থেকে প্রিয়া বাবার বাড়িতেই ছিলেন।
বিপ্লব হোসেন জানান, রোববার বিকেল ৩টার দিকে রাকিব প্রিয়াকে ফোন করে জানান যে তাঁকে তালাক দেওয়া হয়েছে এবং তালাকনামা দু-একদিনের মধ্যেই পৌঁছে যাবে। এ কথা শোনার পর প্রিয়া ভেঙে পড়েন। একপর্যায়ে বাড়ির সবার অগোচরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের আড়ায় ঝুলে আত্মহত্যা করেন।
বিপ্লব হোসেন জানান, এএসআই রাকিব হাসান ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইন টেলিকমে কাজ করেন। তিনি বলেন, ‘প্রিয়ার আত্মহত্যার বিষয়টি রাকিবের বাবাকে জানানো হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন তিনি অসুস্থ।’
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য প্রিয়ার স্বামী এএসআই রাকিব হাসান ও তাঁর বাবা আবদুর রাজ্জাকের ফোনে কয়েক দফা চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন ধরেননি।
প্রিয়ার পরিবারের সদস্যরা জানান, আজ সোমবার তালাকের কপি হাতে পেয়েছেন। মনের অমিল, বনিবনা না হওয়া, অবাধ্য হওয়া ইত্যাদি কারণ দেখিয়ে গত ২ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখে ঢাকার বিজয়নগর কাজী অফিস থেকে তালাকের নোটিশটি পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে বাঘারপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তরুণ কুমার কর বলেন, ‘লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। প্রিয়ার পরিবার এজাহার দিলে ৩০৬ ধারায় মামলা হবে।’

সাইফুল ইসলাম সজল, যশোর