সাতক্ষীরায় সাংবাদিককে মারধর
সাতক্ষীরায় একজন সাংবাদিককে মারপিট করেছে সন্ত্রাসীরা। আহত অবস্থায় ওই সাংবাদিককে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল রোববার রাতে এ ঘটনা ঘটে।
আহত সাংবাদিক জুলফিকার আলীর অভিযোগ, সদর উপজেলার বাঁশদহা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও তাঁর লোকজন এই ঘটনার জন্য দায়ী।
তবে চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন বলেন, জুলফিকার তাঁর প্রতিবেশীদের হাতে মার খেয়েছেন বলে শুনেছি।
জুলফিকার সাতক্ষীরার স্থানীয় দৈনিক আজকের সাতক্ষীরা পত্রিকার বাঁশদহা ইউনিয়ন প্রতিনিধি ও হাওয়ালখালী গ্রামের মো. রাহাতুল্লাহ সরদারের ছেলে।
জুলফিকার জানান, রোববার রাত ১০টার দিকে চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ও ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম শীতার্ত মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করছিলেন। এ বিষয়ে খোঁজ নিতে শহিদুলের কাছে ফোন করলে তিনি চেয়ারম্যানের কাছে ফোন সেটটি দেন। চেয়ারম্যান এ সময় তাঁকে গালাগাল করে বলেন, ‘তুই আমার বিরুদ্ধে চাল বিতরণ নিয়ে উল্টোপাল্টা খবর লিখেছিস। এখন আবার কম্বলের রিপোর্ট চাস ক্যান।’
জুলফিকার আরো জানান, এ ঘটনার ঘণ্টা খানেক পর তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় বাড়ির পাশেই লাঠিসোটা, রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর হামলা করা হয়। চেয়ারম্যান নিজে ও তাঁর ভাই ইউপি সদস্য শহিদুল, মিঠু, শহীদ ও তারিকুজ্জামানসহ কয়েকজন তাঁকে মারধরের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এই হামলায় তিনি গুরুতর আহত হলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ওই সাংবাদিক আরো বলেন, ১০ টাকা দরের চাল বিতরণে দুর্নীতি হওয়ায় চেয়ারম্যানকে জড়িয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন করেছিলাম। এ জন্য ক্ষিপ্ত ছিলেন চেয়ারম্যান মোশাররফ। এরই জেরে এই হামলা।
তবে চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘জুলফিকারের সঙ্গে তাঁর প্রতিবেশী ইয়াকুব ও আইয়ুবসহ কয়েকজনের জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে দুই পক্ষ তিনটি মামলাও করেছে। তারাই তাকে মারপিট করেছে বলে শুনেছি। ঘটনার সময় আমি ইউনিয়ন পরিষদে ছিলাম। জুলফিকারের ওপর হামলার ঘটনায় আমি বা আমার পরিবারের কোনো সদস্য জড়িত নন।’

সুভাষ চৌধুরী, সাতক্ষীরা