সিন্দুকে লুকিয়ে প্রাণ গেল প্রেমিকের, খালাসহ দুজনের রিমান্ড মঞ্জুর
প্রেমিকার বাড়িতে রাত্রিযাপনে গিয়ে ধরা পড়ার ভয়ে কাঠের সিন্দুকে লুকিয়ে শ্বাসরোধে মারা যান প্রেমিক রনি। পরে লাশ গোপন করতে নিজের বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেন দুর সম্পর্কের খালা প্রেমিকা রুমা।
এদিকে, ঘটনার এক মাস ২০ দিন পর মুন্সীগঞ্জের রামপালের খালা রুমার সেপটিক ট্যাংক থেকে গতকাল বুধবার রাতে প্রেমিক রফিকুল ইসলাম রনি (৪৮) নামের ওই ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রেমিকা রুমা (৫১) ও তাঁর কাজের মেয়ে আম্বিয়াকে (৩৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহত রনি নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা এলাকার মৃত কাজী জাহির উদ্দিনের ছেলে।
মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আশফাকুজ্জামান জানান, গ্রেপ্তার হওয়া খালা রুমাকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায় সেপটিক ট্যাংকে রনির লাশ লুকিয়ে রাখার কথা জানান। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রনির লাশ উদ্ধার করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরো জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিহতের খালা রুমা জানান রনির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ দিনের অনৈতিক সম্পর্ক ছিল। গত ৩ নভেম্বর রাতে রনি তাঁর প্রেমিকার (খালা রুমা) বাসায় রাত্রী যাপন করেন। পরের দিন সকালে তাঁর বাসায় কামাল নামের অপর আত্মীয় এলে ধরা পড়ার ভয়ে রনি ঘরের একটি কাঠের সিন্ধুকের ভেতর লুকিয়ে পড়েন। এ সময় সিন্ধুকটি আকস্মিক বন্ধ হয়ে যায়। আগত আত্মীয় চলে গেলে রুমা সিন্ধুকটি খুলে দেখেন সেখানে শ্বাসরোধ হয়ে রনি মারা গেছেন। পরে কাজের মেয়ে আম্বিয়ার সহযোগিতায় রনির লাশ বাড়ির পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেন।
পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তার হওয়া রুমা ও কাজের মেয়ে আম্বিয়াকে আজ বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়। আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এ ঘটনায় গতকাল রাতে নিহতের ভাই বাদী হয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ওই ব্যক্তির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার।

মঈনউদ্দিন সুমন, মুন্সীগঞ্জ