‘সম্পত্তির লোভে মামলা’, বিনাবিচারে বন্দি কিশোরীর জামিন
জান্নাতুল ফেরদৌস আক্তার শিমু (১৭)। একটি চুরির মামলায় প্রায় দেড় বছর বন্দিজীবন কাটিয়েছে। আপন বলতে কেউ না থাকায় এই সময়ে তার পক্ষে কেউ জামিনের আবেদন করেনি। অবশেষে সরকারি আইনি সহায়তার মাধ্যমে সে জামিন পেয়েছে।
শিমুর অভিযোগ, ছোটবেলাতেই সে মা-বাবাকে হারিয়েছে। চাচার বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করে খাবার জুটত তার। সেই চাচাই পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের লোভে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করিয়েছে।
আজ মঙ্গলবার ঢাকার শিশু আদালত ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ৩-এর বিচারক জয়শ্রী সমাদ্দার কিশোরী শিমুকে জামিন দিয়েছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামীকাল বুধবার গাজীপুরের কিশোরী উন্নয়নকেন্দ্র থেকে ছাড়া পাবে শিমু।
জামিন আদেশের পর পরই আদালতে শিমুর সঙ্গে এনটিভি অনলাইনের কথা হয়। এ সময় শিমু জানায়, তার কোনো স্বজন নেই। তার যাওয়ারও কোনো জায়গা নেই। জামিন পেয়ে সে এক বান্ধবীর বাসায় যাবে। কিশোরী উন্নয়নকেন্দ্রে থাকার সময় সে পোশাক তৈরির কাজ শিখেছে। গার্মেন্টে কাজ করেই সে আগামী দিনগুলোতে চলতে চায়। তার গ্রামের বাড়ি পাবনায়।
শিমুকে আইনগত সহায় দিয়েছেন লিগ্যাল এইডের মনোনীত আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ূন কবির সরকার সবুজ। তিনি আজ এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘কিশোরী বিনাবিচারে কারাগারে আটক ছিল। প্যারা লিগ্যাল কারাগারে গিয়ে তার বক্তব্য শুনে লিগ্যাল এইডকে জানায়। তারপর লিগ্যাল এইড খোঁজ-খবর নিয়ে দেখে মেয়েটির কোনো স্বজন নাই এবং তার বিরুদ্ধে যে মামলাটি করা হয়েছে তা ডিফেক্টটিভ (ত্রুটিপূর্ণ)। ২০১৮ সালের ১১ মে শিমুকে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ এক লাখ টাকার স্বর্ণ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার করে।
আইনজীবী হুমায়ূন আরো বলেন, ‘আজকে অনির্ধারিত তারিখে এই শিশুর জামিন শুনানি হয়েছে। বিচারক তাকে জামিন দিয়েছেন। শুনানিতে বলেছি, শিশুর কাছ থেকে কোনো চোরাই মাল উদ্ধার হয়নি। এখানে তাকে বাবার সম্পত্তি থেকে দূরে রাখার জন্য এবং গ্রাস করার জন্য তার চাচা বাদীর মাধ্যমে মিথ্যা মামলা করিয়েছেন। এ ছাড়া আগামী ১২ জানুয়ারি মামলার অভিযোগ গঠনের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।’
জান্নাতুল ফেরদৌস আক্তার শিমু তাঁর জীবনের বর্ণনা দিতে গিয়ে এনটিভি অনলাইনকে বলে, জন্মের পরই আমার মা মারা যান। তখন বাবাই আমাকে বড় করেন। ২০১৭ সালে বাবাও মারা যান। পরে আমি এক চাচার কাছে থাকতাম। তাদের বাড়িতে কাজ করতাম, বিনিময়ে খাবার পেতাম। চাচা খুব মারধর করতেন।
‘আমার বাবার কিছু সম্পত্তি আছে। সেগুলো আমার চাচার দখলে। একদিন চাচা আমাকে ঢাকায় কাজের কথা বলেন। আমি রাজি হই। তিনি আমাকে তাঁর এক বন্ধু মো. ছাদেকের যাত্রাবাড়ী বাসায় নিয়ে আসেন। সেখানে আমি কিছুদিন গৃহকর্মীর কাজ করি।’
শিমু আরো বলে, ‘এক মাস পরে হঠাৎ আমাকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। এরপর আর কিছু জানতে পারিনি। দেড়বছর গাজীপুরে জেলে ছিলাম। আজ লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে জামিন পাইছি।’

আদালত প্রতিবেদক