শান্তি চুক্তির ফল ভোগ করছেন পাহাড়ের অধিবাসীরা : বীর বাহাদুর
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং বলেছেন, পার্বত্য শান্তি চুক্তির ফলে পাহাড়ের শান্তি ও সম্প্রীতির নবযুগের সুচনা হয়েছে। শান্তি চুক্তির ফল ভোগ করছেন পাহাড়ের মানুষ। যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ সব ধরনের উন্নতি হয়েছে পার্বত্য এলাকায়।
আজ সোমবার পার্বত্য শান্তি চুক্তির ২২ বছর পূর্তি উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর কোনো তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা ছাড়াই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলমান সংঘাত নিরসনে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি করেন।
মন্ত্রী আরো বলেন, কোনো অঞ্চলকে পিছিয়ে রেখে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সাধিত হয় না। এ উপলব্ধি থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পার্বত্য শান্তি চুক্তির উদ্যোগ নেন। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সে প্রেক্ষাপটে ১৯৯৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি খাগডাছড়ি জেলা স্টেডিয়ামে শান্তি বাহিনীর সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিানার হাতে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। পার্বত্য শান্তি চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে ৬৩টি বাস্তবায়িত হয়েছে। নয়টি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মন্ত্রী আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ফলে পাহাড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। কৃষক তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে। পর্যটন শিল্পের বিকাশ সাধিত হচ্ছে, ফলে স্থানীয় অর্থনীতি বিকশিত হচ্ছে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক বিকাশ, সংরক্ষণ ও গবেষণার জন্য রাজধানীর বেইলি রোড়ে ১৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে শেখ হাসিনা পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স নির্মিত হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মেসবাহুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি হেলেন কিলারের কনসালটেন্ট আবদুল হাই তালুকদার, ইউএনডিপির এমওয়াই খান মজলিস, অতিরিক্ত সচিব সুদত্ত চাকমা প্রমুখ।

নিজস্ব প্রতিবেদক