মানিকগঞ্জ শহররক্ষা বাঁধে ভাঙন
কয়েকদিন ধরে বন্যার পানি নামার ফলে মানিকগঞ্জের কালীগঙ্গা নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে মানিকগঞ্জ জেলা সদরের শহররক্ষা বাঁধ। এরই মধ্যে বাঁধটির চারটি অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। কিছু জায়গা নদীতে চলে গেছে।
মানিকগঞ্জ পৌর এলাকার বোয়ালিয়া ও বড় সরুন্ডী এলাকায় নদীভাঙনের সংবাদ সংগ্রহকালে দেখা যায়, ষাটোর্ধ্ব জুলেখা বেগম নদীর পাড়ে বসে আসন্ন ভয়াবহ ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছেন। এর আগে কখনো এমন ভাঙন তিনি এখানে দেখেননি। তবে তিন বছর ধরে ড্রেজার বলগেট আসায় এ ভাঙন হচ্ছে বলে তাঁর ধারণা। নদীভাঙনে শেষ সম্বল বাড়িটি যদি চলে যায় তবে মাথা গোজার আর কোনো ঠাঁই থাকবে না। এ অবস্থায় নদীভাঙন রোধে সরকারকে নজর দিতে অনুরোধ জানান তিনি।
এরই মধ্যে শহররক্ষা বাঁধ এলাকার দুই-একটি বাড়ি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। যেকোনো সময় তা নদীতে বিলীন হতে পারে। ভেঙে যেতে পারে শহররক্ষা বাঁধ।
নদীতীরের বাসিন্দা ছানোয়ার হোসেন (৫৫) জানান, নদীপাড়ের জমি ও বাড়িটি ছাড়া তাঁর আর অন্য কোথাও জমি নেই। যেভাবে এই ভাঙন দেখা দিয়েছে তা অতি দ্রুত মেরামত করা দরকার। অন্যথায় নদীতে বাড়ি চলে গেলে তাঁকে রাস্তায় থাকতে হবে।
ছানোয়ার বলেন, কালীগঙ্গা নদীর পাড় ঘেষে যে বাঁধটি নির্মাণ করা হয়েছে এটা মূলত মানিকগঞ্জ শহররক্ষা বাঁধ। এখনই যদি এ ভাঙন না ঠেকানো যায় তবে শহর রক্ষা করা সম্ভব হবে না।
এ ছাড়া এলাকার অন্য বাসিন্দাদের মতো ছানোয়ারেরও অভিযোগ, মূলত ড্রেজার বলগেট বসানোর কারণেই নদীর এই ভাঙন দেখা দিয়েছে।
এদিকে প্রায় ১০ বছর আগে ২০১০ সালে মানিকগঞ্জের কালীগঙ্গা নদীতে ব্লক স্থাপনের মধ্য দিয়ে শহররক্ষা বাঁধ তৈরি করা হয়। যা এখন অনেকটাই দৃশ্যমান দুর্বল এবং তিন-চার বছর ধরেই নদী পাড়ের ব্লকগুলো আস্তে আস্তে সরে যেতে শুরু করেছে। ফলে বাঁধ ভেঙে গেলে জেলা সদরের শত শত ঘরবাড়ি হুমকির মুখে পড়বে বলে পৌর এলাকার বাসিন্দা মতিয়ার রহমানের (৬০) আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
পৌর এলাকার বাসিন্দা মো. সিদ্দিকুর রহমান জানান, ভাঙনের পর পরই তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছেন। প্রতি উত্তরে তারা (পাউবো) তাঁকে জানিয়েছে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভাঙনস্থলে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ করা হবে।
মানিকগঞ্জ পাউবোর সহকারী উপপ্রকৌশলী মো. সালামত ফকির বলেন, তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ভাঙনরোধে দুই-একদিনের মধ্যেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াসহ জিও ব্যাগ ফেলা হবে। এ ছাড়া বাঁধটি পুনরায় নির্মাণ বা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ড্রেজার বলগেট বসানো প্রসঙ্গে পাউবো কর্মকর্তা বলেন, এক বছরের মধ্যে ভাঙন এলাকায় কোনো ড্রেজার বসানো হয়নি।
এর আগে বোয়ালিয়ার স্থানীয় বাসিন্দারা স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশ ও বেড়া দিয়ে নদীর ভাঙনরোধের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হয়নি। তাই এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে জিও ব্যাগ ফেলে তাদের নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করতে সরকার বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

আহমেদ সাব্বির সোহেল, মানিকগঞ্জ