দেশে পোল্ট্রির নতুন দুটি জাত উদ্ভাবন, খাদ্য খরচ কমবে ১০ শতাংশ
দেশে পোল্ট্রি শিল্পের টেকসই উন্নয়নে নতুন দুটি জাত উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ বিজ্ঞানীরা। একই সঙ্গে পোল্ট্রির মাংস ও ডিমের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি ‘ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই’ ব্যবহারের মাধ্যমে খামারিদের খাদ্য খরচ প্রায় আট থেকে ১০ শতাংশ কমিয়ে আনার অনন্য সাফল্য দেখিয়েছেন তারা। আজ শনিবার (২০ জুন) দুপুরে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বিএলআরআই) আয়োজিত ‘পোল্ট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ’ প্রকল্পের সমাপনী কর্মশালায় গবেষক ও বিজ্ঞানীরা এসব তথ্য জানান।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন। বিএলআরআই-এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও অর্জিত সাফল্য তুলে ধরে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন পোল্ট্রি রিসার্চ সেন্টারের প্রধান এবং বিএলআরআই-এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. সাজেদুল করিম সরকার।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, পোল্ট্রি শিল্প এখন প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশাল বিনিয়োগের বাজার। দেশে প্রাণিজ আমিষ ও পুষ্টির ঘাটতি পূরণে এই খাত সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে, যেখান থেকে বর্তমানে দেশের মোট মাংসের চাহিদার প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ এবং ডিমের সিংহভাগ সরবরাহ করা হয়। এই খাতের টেকসই উন্নয়নে প্রকল্পের আওতায় বিএলআরআই-এর প্রধান কার্যালয়ের ল্যাবে আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং খামার গবেষণা বৃদ্ধির জন্য তিনটি ভার্টিক্যাল পোল্ট্রি গবেষণা শেড নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া বিভাগীয় পর্যায়ে পাঁচটি অঞ্চলে পোল্ট্রি খামারিদের উদ্ভূত সমস্যা নিরসনে প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে তিন হাজার ৮৫০ জন খামারিকে দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি সাশ্রয়ী মূল্যে রেশনে ফিড অ্যাডিটিভস ব্যবহার এবং ‘ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই’ প্রযুক্তির মাধ্যমে পোল্ট্রি খাদ্যের উৎপাদন খরচ ৮ থেকে ১০ ভাগ হ্রাস করার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
বিএলআরআই এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক বলেন, প্রকল্পের আওতায় বেশ কিছু প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি মূল্যবান জার্মপ্লাজম সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয়েছে। এসব প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে দ্রুত সম্প্রসারণের লক্ষ্যে হস্তান্তরের পাশাপাশি প্যাটেন্টভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, জ্ঞান-বিজ্ঞানে এগিয়ে যেতে হলে উদ্ভাবিত প্রযুক্তিসমূহের প্যাটেন্ট নিশ্চিত করতে হবে এবং এজন্য গবেষণাকে মৌলিক হতে হবে। আগামীতে বিদেশনির্ভরতা কমিয়ে দেশের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দেশীয় লোকবল দিয়েই দেশে উচ্চতর গবেষণা পরিচালনা করার তাগিদ দেন তিনি।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (সম্প্রসারণ) ডা. বেগম শামছুননাহার আহম্মদ, কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ড. নাথু রাম সরকার এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. মো. শওকত আলীসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

জাহিদুর রহমান