বিএনপি তো ইভিএম দেখতে আসে না : ইসি সচিব
ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর বলেছেন, ‘বিএনপি তো ইভিএম দেখতে আসে না। আমরা তো ওপেন রেখেছি। আপনারা এসে দেখেন। যদি তারা না আসেন, আমরা তাদের কীভাবে আনতে পারি?’
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনে কমিশন সভা শেষে ‘সবচেয়ে বড় অংশীজন বিএনপিই ইভিএম নিয়ে সন্তুষ্ট নয়’ এক সাংবাদিকের এমন কথার জবাবে ইসি সচিব এ কথা বলেন।
মো. আলমগীর বলেন, ‘ইভিএমে জালিয়াতির কোনো সুযোগ নেই। যদি কারো আঙুল না থাকে তাহলে জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী ওই ব্যক্তি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার মাধ্যমে ভোট দিতে পারবেন। এ ধরনের ঘটনায় মাত্র ১ শতাংশ ভোটারদের শনাক্ত করতে পারবেন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা। ১ শতাংশের বেশির প্রয়োজন হলে রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি নিতে হবে। আরো বেশি লাগলে কমিশনের অনুমতি লাগবে। পরবর্তী সময়ে চাইলে এই ইভিএমের তথ্য জানা যাবে। ভোটের তথ্য আমাদের কাছে ডিজিটালি সংরক্ষণ করা থাকে।’
ইসি সচিব বলেন, ‘ইভিএমে মামলা করারও সুযোগ রয়েছে। কেউ ইচ্ছে করলে এ নিয়ে আদালতেও যেতে পারেন। কেউ মামলা করলে আমরা দেখাতে পারব। ইভিএম মেশিন আমেরিকা, ব্রিটেনসহ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূত দেখে গেছেন। তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।’
জ্যেষ্ঠ সচিব আরো বলেন, ‘শূন্য হওয়া পাঁচটি সংসদীয় আসন নিয়ে কমিশন সভায় আলোচনা হলেও তফসিল নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি উপনির্বাচন নিয়ে আবারও বসবে কমিশন। সেখানে পাঁচটি আসন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। সেদিন তিনটি আসন বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। বাকি দুটি আসনের উপনির্বাচন ও চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন নিয়ে ৭ ফেব্রুয়ারি ফের বৈঠকে বসবে কমিশন।’
আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে মো. আলমগীর বলেন, ‘বড় ধরনের কোনো আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে তা নয়। উত্তর দক্ষিণে দুটি ঘটনা ঘটেছে। এই দুটি ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত। এ ব্যাপারে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। মূলত ২৪ ঘণ্টা আগে এই ধরনের কর্মসূচি সম্পর্কে নিয়ম রয়েছে সেটি না মানায় এমনটি হয়েছে।’
বিদ্যমান আচরণবিধি সংশোধন সম্পর্কে ইসি সচিব বলেন, ‘এটি ২০০৯ সালে করা হয়েছিল। তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় ছিল। সাধারণত এসব ক্ষেত্রে কী করা হয়? তারা সাধারণ জনগণ ও রাজনীতিকদের সঙ্গে খুব একটা কথা বলে আচরণবিধি করে না। তখন সংলাপ হলেও সেটা অনেকটা রেসট্রিকটেট (নিয়ন্ত্রিত) হয়। অনেকের ভেতর ভয়ভীতি থাকে। তারা আচরণবিধিমালাসহ অনেক কিছু চাপিয়ে দেয়। ২০০৯ এবং এখনকার পরিস্থিতি তো এক নয়। এখন গণতান্ত্রিক সরকার, গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি, স্বাধীনভাবে মানুষ কথা বলতে পারে। এখন টক শো করছেন, এত টেলিভিশন, এত পত্রিকা তখন কি এগুলো পারতেন করতে? এত কিছু বলতে পারতেন।’
সচিব বলেন, ‘২০০৯ সালে সাংবাদিকদের ওপরও অনেক বাধানিষেধ ছিল। আপনারা কি সেই আচরণ বিধিমালা চান? যে এখনো সেই আচরণ বিধিমালা থাকুক। এজন্য সেই আচরণবিধি আর সময়ের সঙ্গে মানুষের সচেতনতা বেড়েছে, গণতান্ত্রিক পরিবেশ পরিবর্তন হয়েছে। সেই সঙ্গে আচরণ বিধিমালা আধুনিকায়ন করতে হবে। তার মানে এই নয় কাউকে অন্যায় কোনো সুবিধা দেওয়া হবে। এটি হালনাগাদ করতে হবে।’
সিটি নির্বাচনে পর্যবেক্ষকদের বিএনপির অভিযোগ সম্পর্কে মো. আলমগীর বলেন, ‘পর্যবেক্ষকদের কোনো কার্ড দেওয়ার ব্যাপারে কমিশন থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা দেইনি। যে নীতিমালা আছে সেই অনুযায়ী দিচ্ছি। যারা ইসিতে নিবন্ধিত তাদেরই কার্ড দেওয়া হবে।’

নিজস্ব প্রতিবেদক