প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা, স্ত্রী-ছেলে আটক
ছবি : এনটিভি
সুনামগঞ্জে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মুক্তিযোদ্ধা আবদুল বারিকের প্রথম স্ত্রী ও ছেলে তাঁকে হত্যা করেছে বলে দাবি করছে পুলিশ। এ ঘটনায় স্ত্রী আছিয়া ও ছেলে মিলন মিয়াকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, জমিজমা নিয়ে বিরোধের ঘটনায় প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই এমন হত্যাকাণ্ড ঘটানো হতে পারে। তবে নিহতের মেয়ের দাবি, তাঁর বাবাকে প্রতিপক্ষরাই হত্যা করেছে।
আজ রোববার সকালে জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় নিহত মুক্তিযোদ্ধার দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান মাসুক মিয়া দোয়ারাবাজার থানায় হত্যা মামলা করেছেন। এতে আছিয়া বেগম ও মিলন মিয়াকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে মুক্তিযোদ্ধা আবদুল বারিক মাথায় আঘাত পেয়ে আহত হলে তাঁকে হাসপাতালে নেন স্ত্রী ও ছেলে। এরপর তাঁরা দোয়ারাবাজার থানায় অভিযোগ করতে যান। এ সময় তাঁদের সঙ্গে থাকা নিহত মুক্তিযোদ্ধার দুই নাতি শাহিন (৭) ও রবিউলকে (৮) পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জানায়, তার দাদি ও বাবা তাদের দাদাকে লোহার রড দিয়ে আঘাত করেছে। মূলত তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ নিহতের স্ত্রী ও ছেলেকে আটক করে।
পুলিশ জানায়, এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে ও খুনের আলামত দেখে প্রাথমিকভাবে পরিবারের লোকজনই খুনের সঙ্গে জড়িত বলে মনে হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে একই গ্রামের কালাশাহ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল। এর আগে ২০১৭ সালে কালাশাহর মেয়ের জামাই আফিজ আলী খুন হন। এই খুনের ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা আবদুল বারিকের বড় ছেলে সাহবাজ জেলহাজতে আছেন।
নিহতের মেয়ে মমতাজ বেগম বলেন, ‘বাবার আহত হওয়ার খবর শুনে আমি সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলি। এর পর আমার ভাই আবার ফোন করে বলে বাবা মারা গেছেন। আমি পরে থানায় নিয়ে যেতে বলি। মূলত প্রতিপক্ষরাই বাবাকে হত্যা করেছে। এখন তারা মা-ভাইকে আটক করে ঘটনা অন্যায়ভাবে অন্যদিকে মোড় নেওয়ায় চেষ্টা করছে।’
মমতাজ বেগম বলেন, ‘আমার বাবাকে যদি আমার পরিবারের কেউ কিছু করত তারা কেন হাসপাতালে নিয়ে আসবে? আমার মা-ভাই-ই বাবাকে নিয়ে আসে।’
নিহত মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী আছিয়া বলেন, ‘কালা শাহ টাকা পেত, টাকা না পেয়ে সকালে লোহার রড দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। আমার ছেলে মিলনকেও মারতে চেয়েছে, আমাকেও মেরেছে।’
জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ‘আজকের ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। মুক্তিযোদ্ধারা দেশের সর্বোচ্চ সম্মানিত ব্যক্তি। তাদের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। সেই মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটল। তবে ঘটনার সব ক্লু পাওয়া গেছে। জমিজমা নিয়ে বিরোধ কিংবা পারিবারিক জেরের ঘটনায় প্রতিপক্ষতে ফাঁসাতেই এমন হত্যাকাণ্ড ঘটানো হতে পারে। আমরা কিছু আলামত দেখে নিহত মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী ও ছেলেকে আটক করেছি। ঘটনার সব কিছুই জানা গেছে। তদন্তের স্বার্থে সব কিছু বলা যাবে না। তবে ২০১৭ সালের একটি হত্যার ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধাসহ তাঁর ছেলেদের নামে মামলা চলছে। নিহত মুক্তিযোদ্ধার লাশ থানায় রাখা হয়েছে।’

দেওয়ান গিয়াস চৌধুরী, সুনামগঞ্জ