পেঁয়াজ নিয়ে ভারতের প্রস্তাব পাননি বাণিজ্যমন্ত্রী
বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ ভারত পুনরায় বাংলাদেশে রপ্তানি করতে চায় বলে গণমাধ্যমে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, সেই ব্যাপারে দেশটির কাছ থেকে এখনো কোনো প্রস্তাব পাননি বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ভারতের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ধরনের কোনো প্রস্তাব এখনো পাইনি। এ ছাড়া বিষয়টি আমাদের বিবেচনায়ও নেই।’
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
অভ্যন্তরীণ সঙ্কট মোকাবেলায় ভারত কেন্দ্রীয়ভাবে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রচুর পেঁয়াজ আমদানি করে। রাজ্য সরকারগুলো আমদানিকৃত পেঁয়াজ নিতে অস্বীকৃতি জানালে হাজার হাজার টন পেঁয়াজ নিয়ে বিপাকে পড়ে কেন্দ্রীয় সরকার। এই অবস্থায় ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে পেঁয়াজ নিতে অনুরোধ জানান। গতকাল বুধবার ভারত ও বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলো এ সংবাদ প্রকাশ করেছে।
এই সংবাদের সূত্র ধরে আজ বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত। আমাদের মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত কোনো প্রস্তাব এখনো পায়নি।’
ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আসলে সরকার কী পদক্ষেপ নেবে- এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগে প্রস্তাব আসুক। তারপর প্রস্তাব দেখে আমরা করণীয় ঠিক করবো। তবে বর্তমানে এ বিষয়টি আমাদের বিবেচনায় নেই।’
ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার রকিবুল হককে ভারতের কাছ থেকে পেঁয়াজ কেনার প্রস্তাব দেয়। এসব পেঁয়াজ নিজেদের জন্য আমদানি করেছিল ভারত।
গণমাধ্যমকে ভারতের একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা জানান, ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত ভারত ১৮ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করেছে। ভারত মোট ৩৬ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির চুক্তি করেছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমদানি করা পেঁয়াজ থেকে মাত্র তিন হাজার টন নিয়েছে বিভিন্ন প্রদেশের সরকার, আর বাকি পেঁয়াজ পড়ে রয়েছে মুম্বাইয়ের জওহরলাল নেহরু বন্দরে।’
এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে ভারতের ভোক্তাবিষয়ক মন্ত্রী রামবিলাস পাসওয়ান জানিয়েছিলেন, মহারাষ্ট্র সরকার ১০ হাজার টন, আসাম তিন হাজার টন, হরিয়ানা তিন হাজার ৪৮০ টন, কর্ণাটক ২৫০ টন ও ওড়িশা সরকার ১০০ টন পেঁয়াজের চাহিদা প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
গত বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বরে পেঁয়াজের মূল্য কেজিপ্রতি ১০০ রুপি ছাড়িয়ে যাওয়ার পর এই রাজ্যগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল পণ্যটি আমদানি করার। কিন্তু আমদানি করা পেঁয়াজের উচ্চমূল্য এবং স্বাদের ভিন্নতার কথা বলে এসব রাজ্য এখন আর পেঁয়াজ নিতে রাজি হচ্ছে না।
ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আরো জানান, ভারত এসব পেঁয়াজের বেশির ভাগই টনপ্রতি ৬০০ থেকে ৭০০ ডলারে আমদানি করলেও, এখন মোদি সরকার বাংলাদেশকে এসব পেঁয়াজ টনপ্রতি ৫৫০ থেকে ৫৮০ ডলারে কেনার প্রস্তাব দিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক