জাহাজে পেঁয়াজ আসছে, ‘একটু কষ্ট’ করতে বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী
বাজারে পেঁয়াজ সংকট নিয়ে আজ বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী বলেছেন, ‘আগামী ১০ দিনের মধ্যে জাহাজে করে আমদানি করা পেঁয়াজ বাজারে আসবে। এ পেঁয়াজ চট্টগ্রাম পর্যন্ত আমদানি খরচ পড়ছে কেজিপ্রতি ৩২ টাকা। খুচরা বাজারে সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ৬০ টাকা হতে পারে। জাহাজের এ চালান আসা পর্যন্ত সবাইকে একটু কষ্ট করতে হবে।’
মতিঝিল ফেডারেশন ভবনের সম্মেলন কক্ষে রোববার সরকারের চারটি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) বৈঠক হয়। সেখানেই বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী ছাড়াও খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, শিল্প সচিব মো. আবদুল হালিম ও কৃষি সচিব মো. নাসির উজ্জামানসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রধান এবং ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম।
চাল, পেঁয়াজ, আটা, লবণসহ মানুষের নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে এসব পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আয়োজিত এ বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের নৈতিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, ‘গত ১৩ সেপ্টেম্বর ভারত আমাদের জন্য পেঁয়াজের রপ্তানি মূল্য বাড়িয়ে দেয়। এ সংবাদ প্রচার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের বাজারে পেঁয়াজের দাম প্রায় দ্বিগুণ করে ফেলেন ব্যবসায়ীরা।’
‘এটা কোন ধরনের নৈতিককতা?’- প্রশ্ন তুলে টিপু মুনশি বলেন, ‘ভারত দাম বাড়িয়েছে ঠিকই। কিন্তু এর প্রভাব আমাদের বাজারে পড়তে তো কম করে হলেও ছয় থেকে সাত দিন লাগবে নাকি?’
‘২৯ সেপ্টেম্বর ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এ সংবাদ প্রচারের কিছুক্ষণের মধ্যে আবারও বাড়িয়ে দেওয়া হলো পেঁয়াজের দাম। তখনো কিন্তু আমাদের বাজারে পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুদ ছিল।’
সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে ব্যবসায়ীরা এই দাম বাড়িয়ে দিয়েছে বলেও বৈঠকে মন্তব্য করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আপনাদের প্রতি আমি অনুরোধ করছি, আপনারা নৈতিকতা মেনে চলুন। মানুষের প্রতি একটু দরদি হোন।’
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে টানা দুই ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নিত্যপণ্যের বাজার দর নিয়ন্ত্রণের রাখতে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমাদের দেশে প্রতি বছর ২৪ থেকে ২৬ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে। এর বেশির ভাগই আমাদের কৃষকরা উৎপাদন করেন। ছয় থেকে সাত লাখ টন পেঁয়াজ আমাদের আমদানি করতে হয়।’
‘আমদানি করা পেঁয়াজের ৯০ ভাগই আসে ভারত থেকে। এবার ভারতে বন্যা হওয়ায় তাদের দেশেই পেঁয়াজের সংকট দেখা দেয়। ফলে আমরা মিশর, তুরস্ক ও পাকিস্তানসহ আরো কয়েকটি দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নিয়েছি। এর মধ্যেই কার্গো উড়োজাহাজে করে পেঁয়াজ আসা শুরু হয়েছে। দাম কিছুটা কমে এসেছে’, বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
বৈঠকে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের পর্যাপ্ত চালের মজুদ রয়েছে। চালের কোনো সংকট নেই। কাজেই কেউ কারসাজি করে চালের দাম বাড়াতে পারবে না। এ বিষয়ে আমরা সচেতন রয়েছি।’
সভার শুরুতে এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, ‘নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর বছরব্যাপী চাহিদা, বাংলাদেশে পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, মজুদ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ও যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণের প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা পাব এ সভা থেকে।’

নিজস্ব প্রতিবেদক