গাজীপুরে জুয়েলারি দোকানে ডাকাতি, সোনা-রুপাসহ গ্রেপ্তার ১০
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় জৈনাবাজারে দুই জুয়েলারি দোকানে ফিল্মি স্টাইলে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত এক দম্পতিসহ আন্তজেলা ডাকাতদলের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ধামরাই ও আশুলিয়া এলাকার দুজন স্বর্ণ ব্যবসায়ীও রয়েছেন। তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত স্বর্ণালকার ও নগদ টাকাসহ ককটেল, চাপাতি, মোটরসাইকেল ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত মালামাল জব্দ করা হয়েছে।
আজ রোববার দুপুরে গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) শামসুন্নাহার তাঁর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন পাবনার সুজানগর উপজেলার রায়পুর ক্ষেতুপাড়া এলাকার ডাকাত সর্দার মনির মোল্যা ওরফে আকুব্বর হোসেন আকু (৩৮), মনিরের স্ত্রী মোসাম্মৎ ছুম্মা খাতুন (৩২), একই জেলার সদর থানার শালাইপুর কামরীপাড়া এলাকার ডাকাতদলের সেকেন্ড ইন কমান্ড আলমগীর হোসেন ওরফে আলম (৪০), মাদারীপুরের শিবচর থানার চরচাণ্ডা এলাকার সাইদুর সরদার (৪৪), রাজবাড়ির পাংশা থানার রূপীয়াট এলাকার রানু শেখ ওরফে নান্নু শেখ (৩৮), বগুড়ার গাবতলী থানার মাঝবাড়ী পশ্চিমপাড়া এলাকার বাদশা প্রামাণিক ওরফে বাবু ওরফে বাদশা বাবু (৩৮), শরীয়তপুরের ডামুড্ডা থানার বড় সীধুলকুড়া এলাকার নাজমুল (২৬), নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বানিয়াদী এলাকার সুজন (২৪), ঢাকার আশুলিয়ার বারইপাড়া এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী সঞ্জয় সরকার (৪০) এবং একই জেলার ধামরাই থানার নোয়ানগর এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী বিবেক পাল (৪২)। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় একাধিক ডাকাতির মামলা রয়েছে।
পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার জানান, গত ১৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার জৈনাবাজার এলাকার লক্ষ্মী জুয়েলার্স ও পাশের নিউ দিপা জুয়েলার্স নামের দুটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি করে সশস্ত্র একটি ডাকাত দল। ডাকাতরা ওই দুই দোকান থেকে ৮০ ভরি স্বর্ণ, ৫০০ ভরি রুপা ও নগদ চার লাখ ৬৫ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। ডাকাতরা একটি দোকানের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার হার্ডডিস্কও খুলে নিয়ে যায়। এ সময় বাধা দেওয়ায় ডাকাতদের ছুড়া গুলিতে নিউ দিপা জুয়েলার্সের মালিক দেবেন্দ্র কর্মকার গুরুতর আহত হন।
এ ঘটনার পর পরই জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত টিম তদন্ত শুরু করে অভিযানে নামে। এ টিমের নেতৃত্ব দেন গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ জানান, ঘটনার পর পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার হোতাপাড়া এলাকা থেকে সেকেন্ড ইন কমান্ড আলমগীর হোসেন ওরফে আলমকে আটক করে। এ সময় তাঁর ভাড়া বাসা থেকে ককটেল ও চাপাতিসহ ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিরাজগঞ্জ, পাবনা, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাতদলের ওই ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত ৪৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, দুই কেজি ৬০০ গ্রাম রুপা, এক লাখ ৫৬ হাজার ৩২০ টাকা, সাতটি ককটেল, একটি চাপাতি ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরো জানান, গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার মৌচাকের ভান্নারা এলাকায় স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন ডাকাত সর্দার মনির। তিনি ঝুট ব্যবসার আড়ালে ডাকাতি করতেন। শ্রীপুরের এ ডাকাতির আগে মনিরের স্ত্রী ছুম্মা খাতুন ও অপর দুজন ঘটনাস্থল রেকি করে। পরে ঘটনার দিন সকালে নারায়ণগঞ্জ ও কালিয়াকৈর থেকে ডাকাতদলের সদস্যরা গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভোগড়া এলাকায় এসে মিলিত হয়। পরে তারা মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলে চড়ে জৈনা বাজারে এসে এ ডাকাতি করে। তাঁরা স্বর্ণালকারসহ লুণ্ঠিত মালামাল হোতাপাড়া এলাকায় ডাকাতদলের সেকেন্ড ইন কমান্ড আলমগীর হোসেনের বাসায় জমা রেখে পালিয়ে যান।
পরের দিন এসব স্বর্ণ ব্যবসায়ী সঞ্জয় সরকার ও বিবেক পালের কাছে ১৮ লাখ টাকায় বিক্রি করেন। এ টাকা থেকে পৌনে দুই লাখ টাকা অস্ত্র কেনার জন্য জমা রাখে। অবশিষ্ট টাকা তাঁরা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেন। এ ডাকাতি করার জন্য গ্রেপ্তারকৃত স্বর্ণ ব্যবসায়ী সঞ্জয় সরকার ও বিবেক পাল ডাকাতদলকে তিন লক্ষাধিক টাকা অগ্রিম দেন বলে গ্রেপ্তারকৃতরা পুলিশকে জানিয়েছেন।
পুলিশ কর্মকর্তা রাসেল শেখ আরো জানান, ডাকাতদলটি গাজীপুরের কোনাবাড়ির বিকাশ এজেন্টের একটি অফিসে এবং নারায়ণগঞ্জের একটি জুয়েলারি দোকানে চলতি সপ্তাহে ডাকাতি করার পরিকল্পনা করেছিল। এজন্য রেকিসহ ডাকাতির প্রাথমিক কাজ এরমধ্যে তাঁরা সম্পন্ন করেছেন। এ দুই ডাকাতির জন্য আরো অস্ত্র কেনার জন্য পৌনে দুই লাখ টাকা পাবনার এক অস্ত্র ব্যবসায়ীকে দেয়। তাঁরা ওই অস্ত্র হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। অস্ত্র হাতে পেলে ওই দুই জেলার জুয়েলারি ও বিকাশ এজেন্টের দোকানে ডাকাতি করতেন বলে তাঁরা জানিয়েছেন।

নাসির আহমেদ, গাজীপুর