গজারিয়ায় সেতুর দুই পাশে মানুষ দাঁড়িয়ে, মাঝখানে চলল ডাকাতি
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নে এক রাতে একাধিক স্থানে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। অস্ত্র দেখিয়ে মানুষকে জিম্মি করে প্রায় তিন লাখ টাকা, ২৫টি মোবাইল সেট ও অর্ধ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নেয় ডাকাত দল। ষোলআনি-দৌলতপুর সেতুতে ডাকাতি চলার সময়ে সেতুর দুই পাশে মানুষ দাঁড়িয়ে থাকলেও অস্ত্রধারী ডাকাতদের সামনে যেতে পারেনি কেউ।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টার সময় একটি স্পিডবোটে করে সাত-আটজন মুখোশ পরা ডাকাত দল ষোলআনী-দৌলতপুর সেতুতে অবস্থান নেয়। এ সময় তারা তিনটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ডাকাতি ও ভাঙচুর চালায়। তারা অটোরিকশায় থাকা বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেনের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা ও দুটি মোবাইল, আলু ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলামের কাছ থেকে ১৪ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল সেট, বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সোহরাব হোসেনের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা ও দুটি মোবাইল সেট, তিন অটোরিকশা চালকের কাছ থেকে তিনটি মোবাইল সেট ও চার হাজার টাকা লুট করে নেয়। প্রায় আধা ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে ডাকাতির ঘটনা। এ সময় সেতুটির উভয় পাশে মানুষ দাঁড়িয়ে থাকলেও ডাকাতদের হাতে অস্ত্র থাকায় কেউ সামনে এগিয়ে যায়নি।
স্থানীয় কয়েকজন জানান, তাদের চোখের সামনে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও তারা কিছু করতে পারেননি। ডাকাতরা সবাই অস্ত্রধারী ছিল। কেউ সামনে আগালে তাকে গুলি করা হবে এমনি হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তাই ভয়ে কেউ সামনে আগায়নি। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে গজারিয়া থানা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তাকে জানানো হলেও কেউ এগিয়ে আসেনি।
এ ঘটনার দেড় ঘণ্টা পরে একই ডাকাতদল পুনরায় আবার দৌলতপুর আটানী মসজিদ এলাকায় ডাকাতি করে। এ সময় দুটি দোকান ও মেঘনা নদীতে চলাচলকারী বেশ কয়েকটি বাল্কহেড থেকে প্রায় দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা ও ১৭টি মোবাইল সেট লুটে নেয় তারা। দোকানে ডাকাতি করার সময় দোকান মালিক মোজাহিদ বাধা দিতে গেলে তাঁর ওপর গুলি চালায় ডাকাতদল। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ১২টার সময় ডাকাত দলের দুই সদস্য প্রথমে তৌহিদ ও মুজাহিদের দোকানে সিগারেট কিনতে যায়। তবে তাদের মুখে মুখোশ ও আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় দোকান বন্ধ করে দিতে চান দোকানদাররা। তবে সে সময় ডাকাত দলের বাকি সদস্যরা দোকান দুটি ঘিরে ফেলে। অস্ত্র দেখিয়ে তাদের জিম্মি করে সব কিছু দিয়ে দিতে বলে। এ সময় দোকানদার মুজাহিদ অস্বীকৃতি জানালে তাঁর ওপর গুলি চালানো হয়।
বাল্কহেড মালিক শামসুল হক ও মুসা জানান, শুধু তাদের বাল্কহেডে নয়, গতকাল রাতে সে সময় মেঘনা নদীতে চলাচলকারী প্রায় সবগুলো বাল্কহেডে ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে গজারিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মামুন আল রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানান, রাতে এ বিষয়ে তারা একটি ফোন পেয়েছিলেন। তবে ঘটনাস্থল বেশ দূরে হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছাতে পারেনি। তবে এ ঘটনায় জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।
তবে এই বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর ও গজারিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশফাকুর জামান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা এই ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। একটি দোকান থেকে আট হাজার টাকা ও তিনটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে সর্বস্ব ছিনিয়ে নেয় ডাকাতরা। তারা স্পিডবোটে করে এসে ঘটনা ঘটায় বলে জানা গেছে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মাহফুজ আহমেদসহ আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।’

মঈনউদ্দিন সুমন, মুন্সীগঞ্জ