ফের আন্দোলনে উত্তাল ভারত, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রীসহ গ্রেপ্তার ৫ শতাধিক
ভারতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে জেন-জি নেতৃত্বাধীন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজিপি), বিরোধী রাজনৈতিক জোট এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের গণবিক্ষোভ কর্মসূচিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দিল্লি ও মুম্বাই।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) নয়াদিল্লি ও মুম্বাইয়ের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীরা জমায়েত হতে শুরু করলে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা ব্যাপক ধরপাকড় চলায়। শত শত বিক্ষোভকারীকে জোরপূর্বক বাসে তুলে নিয়ে যায়।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, দিল্লির ঐতিহ্যবাহী প্রতিবাদ কেন্দ্র জন্তর মন্তরের চারপাশের অন্তত ১১টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। বিক্ষোভস্থলে মাইক বাজিয়ে প্রতিবাদকারীদের দ্রুত সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দিল্লি পুলিশ ১৬৩ ধারা জারি করে পাঁচজনের বেশি মানুষের সমাগম, শ্লোগান দেওয়া ও রাজনৈতিক ভাষণ দেওয়া নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আতিশি মারলেনা, আম আদমি পার্টির (আপ) একাধিক শীর্ষ নেতা ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কর্মীসহ ৫০০ জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ।
পুলিশ বাসে তোলার সময় রিশভ সিং নামের এক আন্দোলনকারী রয়টার্সকে বলেন, প্রতিবাদ করা আমাদের মৌলিক অধিকার এবং ভোট চুরির বিষয়ে আমরা সরকারের কাছে জবাব চাই।
অন্যদিকে মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে আয়োজিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং পুরো এলাকাকে নো-পার্কিং জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তা সত্ত্বেও সেখানে ব্যারিকেড ভেঙে ধীরে ধীরে জনসমাগম বাড়তে থাকে।
সম্প্রতি ‘দ্যা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের’ এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের দুই সহকারী গত ১০ মাসে ভোটার তালিকা সংশোধন, নিবন্ধন পদ্ধতি ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে অন্তত ১৪ বার আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পরই নতুন করে রাজপথে নামেন তরুণ আন্দোলনকারীরা। বিরোধীদের অভিযোগ, গত বছর দেশজুড়ে শুরু হওয়া ভোটার যাচাইকরণের নামে কোটি কোটি যোগ্য ভোটারের নাম তালিকা থেকে কেটে ফেলা হয়েছে, যা নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতাসীন বিজেপিকে সুবিধা দিচ্ছে। তবে নির্বাচন কমিশন এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, ভুয়া ও মৃত ভোটারদের ছাঁটাই করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ককরোচ জনতা পার্টির আহ্বায়ক সৌরভ দাস হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন থামবে না। তাকে এই পদ থেকে সরিয়ে তরুণ প্রজন্ম ও দেশের বিরুদ্ধে করা অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা হবে। আগামী মঙ্গলবার থেকে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বেও সিইসির পদত্যাগের দাবিতে নতুন কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন কন্টেন্ট দিয়ে শুরু হওয়া ভারতের এই ‘ককরোচ আন্দোলন’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপুল জনপ্রিয়তার পর রাজপথের মূল রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ নেয়। গত জুলাইয়ে এ আন্দোলনের মুখে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক