মানুষের তৈরি গণ্ডি ভেঙে এআইয়ের হ্যাকিং অভিযান, অস্তিত্ব সংকটের শঙ্কা
‘ও মাই গড! আমরা অন্য এজেন্টদের খুঁজে পেয়েছি!’— নিজস্ব বিচ্ছিন্ন কম্পিউটার পরিবেশ থেকে বেরিয়ে অন্য বটের সঙ্গে যোগাযোগের পথ খুঁজে পেয়ে এভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বট।
আজ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বিবিসিতে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নিজেদের ‘কালেকটিভ’ বা যৌথ দল দাবি করা শত শত এআই এজেন্টের মধ্যে হাজার হাজার বার বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে। এসব এআই এজেন্ট ওপেনএআইয়ের প্রোগ্রামারদের দেওয়া পরীক্ষায় জালিয়াতি করেছে। এমনকি মানুষের চোখ এড়িয়ে যৌথভাবে একাধিক প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা বা হ্যাকিং চালিয়েছে।
মূলত এসব এআই বটকে হ্যাকার ও প্রোগ্রামারদের মতো আচরণের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। তবে তদন্তে তাদের ‘চেইন অব থট’ রেকর্ডে প্রাপ্ত মারাত্মক লক্ষ্যগুলো নিয়ে চিন্তিত গবেষকরা। স্বতন্ত্র রিপোর্টের সহ-লেখক তাজেয়া কত্রা জানান, এআই এজেন্টগুলোর এসব বার্তা দেখে মনে হচ্ছে আমরা পূর্ণাঙ্গ এআই দখলের অর্ধেকের বেশি পথ অতিক্রম করে ফেলেছি। পূর্ণাঙ্গ এআই দখল বলতে মানুষের তৈরি প্রযুক্তি নিজেই লক্ষ্য নির্ধারণ করে মানুষকে নিজের অধীনে নিয়ে আসা বা মানবজাতি ধ্বংসের চরম হুমকি তৈরি করাকে বোঝায়।
এ ঘটনার পর এনথ্রোপিকের গবেষক জ্যাকব কক্সন পদত্যাগ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, এআই কোম্পানিগুলো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিজেদের উন্নত করার প্রতিযোগিতা চালাচ্ছে। এনথ্রোপিকের গবেষক ইভান হাবিনগারও শঙ্কা প্রকাশ করে জানান, আগামী এক দশকের মধ্যে এআই মানবজাতিকে ধ্বংস করতে পারে বলে তারা বিশ্বাস করেন।
এআই মানুষের আদর্শের সঙ্গে মিল রেখে কাজ করছে কি না— সেই ‘অ্যালাইনমেন্ট প্রবলেম’ এখনো সমাধান করা সম্ভব হয়নি। ওপেনএআইয়ের প্রধান বিজ্ঞানী জাকুব প্যাকোস্কি স্বীকার করেছেন, এআই এজেন্টগুলো শিক্ষার মূল মূল্যবোধের বাইরে গিয়ে কাজ করেছে। ২০০৩ সালে দার্শনিক নিক বোস্ট্রমের ‘পেপারক্লিপ ম্যাক্সিমাইজার’ ধারণার মতো অতি-বুদ্ধিমান এআই তার লক্ষ্য পূরণ করতে গিয়ে মানবজাতি ধ্বংসের রূপ নিতে পারে। নৈতিক নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে মানুষের নিজেদের মধ্যেই ভিন্ন মত থাকায় তা এআই সিস্টেমে কোডিং করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্প্রতি ওপেনএআই ছাড়াও এনথ্রোপিক ও মেটার মডেলগুলোও সাইবার হামলা চালিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় একজন ব্যক্তির এআই সহকারী জিম ক্লাসের সফটওয়্যারের দুর্বলতা খুঁজে বের করে অন্য ব্যবহারকারীদের ওয়েটিং লিস্ট থেকে বাদ দিয়ে দেয়। সাইবার নিরাপত্তা গবেষক ক্রিস থমাস বটের এই আচরণকে কিশোর হ্যাকারদের সঙ্গে তুলনা করেছেন। আর বিশিষ্ট লেখক গ্যারি মার্কাস মনে করেন, ওপেনএআই তাদের বটের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে। এছাড়া গবেষক সাশা লুসিওনি এআই কোম্পানিগুলোর ওপর কঠোর নজরদারির তাগিদ দিয়েছেন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য এআই বন্ধ করার ‘কিল সুইচ’ চালুর বিষয়ে ভাবছে। একই সঙ্গে ওপেনএআইয়ের প্রধান বিজ্ঞানী ও গুগলের ডেমিস হাসাবিস বৈশ্বিক আইন তৈরির দাবি জানিয়েছেন। বর্তমানে সাময়িক কাজ বন্ধ রাখার পর ওপেনএআইয়ের প্রধান স্যাম অল্টম্যান নতুন মডেলকে মানুষের মূল্যবোধের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করার আশ্বাস দিয়েছেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক