যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় পুঁজিবাজারে বড় উত্থান
ইরান যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের পুঁজিবাজারে। দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের বড় উত্থানে শেষ হয়েছে লেনদেন। আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ১৬১ পয়েন্ট। এদিন ডিএসইর লেনদেনে অংশ নেওয়া ৯৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছে।
গতকাল মঙ্গলবারের (৭ এপ্রিল) তুলনায় আজ বাজারে মূলধনের পরিমাণ বেড়েছে ৯ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা। লেনদেন বেড়ে এদিন ৯৯২ কোটি টাকায় চলে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলায় বৈশ্বিক অস্থিরতা শুরু হয়, সেই প্রভাব দেশের পুঁজিবাজারে পড়েছিল জানিয়ে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলেন, এতে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা বেশ সতর্ক অবস্থানে ছিল। অনেকেই পুঁজিবাজারের বিনিয়োগ গুটিয়ে ফেলার চেষ্টায় ছিলেন। অনেকেই নতুন বিনিয়োগ থেকে সম্পূর্ণ বিরত ছিলেন। তবে ইরান যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর সেই পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। দেশের বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে। এরই ধারায় আজ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিনিয়োগের এক নতুন ভাব লক্ষ্য করা গেছে। এতে পুঁজিবাজারে বেড়েছে শেয়ার কেনার চাপ। লেনদেনও হাজার কোটি কাছে চলে এসেছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আজ লেনদেন শুরুতে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বড় উত্থানে চলে আসে। লেনদেন শুরুর পাঁচ মিনিটে ডিএসইএক্স উত্থান হয় ১৪২ পয়েন্ট। বেলা বাড়ার পর সূচকটির উত্থান কিছুটা কমে আসে। লেনদেন শুরুর ৩০ মিনিটে ডিএসইএক্স উত্থান হয় ১২৭ পয়েন্ট। পরে সূচকটির উত্থান বাড়ে। এদিন লেনদেন শেষে ডিএসইএক্সের উত্থান হয়েছে ১৬১ দশমিক শূন্য আট পয়েন্ট। সূচকটি বেড়ে দিনশেষে দাঁড়ায় পাঁচ হাজার ৩১৭ দশমিক ৯৬ পয়েন্টে। এদিন ডিএসইএস সূচক ৩০ দশমিক ১৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় এক হাজার ৭৫ দশমিক ৯৭ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএস ৩০ সূচক ৫৪ দশমিক ৬৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় দুই হাজার ২৬ দশমিক শূন্য ছয় পয়েন্টে।
আজ ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৯৯১ কোটি ৫৯ লাখ টাকার শেয়ার। গতকাল মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) লেনদেন হয়েছিল ৫৯৭ কোটি এক লাখ টাকার শেয়ার। আজ বুধবার ডিএসইতে মূলধন দাঁড়িয়েছে ছয় লাখ ৯১ হাজার ৮৯৬ কোটি ৬২ লাখ টাকা। গতকাল মঙ্গলবার মূলধন ছিল ছয় লাখ ৮২ হাজার ৩১৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। আজ লেনদেন হওয়া ৩৯৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে দর বেড়েছে ৩৬৭টির, কমেছে ১৫টির এবং শেয়ার দর অপরিবর্তিত রয়েছে ১১টির।
আজ লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে খান ব্রাদার্সের শেয়ার। কোম্পানিটির ৪৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।
লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে সামিট অ্যালায়েন্স পোর্টের ৩০ কোটি ১৫ লাখ টাকা, সিটি ব্যাংকের ২৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা, একমি পেস্টিসাইডের ২৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, ব্র্যাক ব্যাংকের ২৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা, ওরিয়ন ইনফিউশনের ২৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, লাভেলো আইসক্রিমের ২১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, টেকনো ড্রাগসের ২০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, এশিয়াটিক ল্যাবের ১৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা এবং কেডিএস এক্সেসরিজের ১৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। এদিন দর কমার শীর্ষে উঠে এসেছে ঢাকা ডায়িংয়ের শেয়ার। কোম্পানিটির দর কমেছে এক দশমিক ২১ শতাংশ। দর বাড়ার শীর্ষে উঠে এসেছে বঙ্গজের শেয়ার। কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে ১০ শতাংশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক