লেনদেনের শীর্ষে ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার, মূলধন বাড়ল ২৯৮ কোটি টাকা
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ব্যাংকের ৮৫ কোটি ৫৭ লাখ ৬০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে সদ্য সমাপ্ত সপ্তাহে, যা ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে মোট লেনদেনের তিন দশমিক ২০ শতাংশ। লেনদেনের শীর্ষে উঠা কোম্পানির শেয়ারপ্রতি দর বেড়েছে এক টাকা ৫০ পয়সা। এতে কোম্পানিটির বাজার মূলধন বেড়েছে ২৯৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা যায়, ডিএসইতে গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ারের সমাপনী দর দাঁড়ায় ৭৫ টাকা ৫০ পয়সা। আগের সপ্তাহের ২৯ জানুয়ারি কোম্পানিটির শেয়ারের সমাপনী দর ছিল ৭৪ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি দর বেড়েছে এক টাকা ৫০ পয়সা বা দুই দশমিক শূন্য তিন শতাংশ।
গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) মোট শেয়ারের মাধ্যমে বাজারে মূলধন দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৩১ কোটি ৪৯ লাখ ২৫ হাজার ৬০৮ টাকা, যা আগের সপ্তাহের ২৯ জানুয়ারিতে ছিল ১৪ হাজার ৭৩২ কোটি ৮৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৫৮ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে মূলধন বেড়েছে ২৯৮ কোটি ৬৩ লাখ ৮৯ হাজার ২৫০ টাকা। গেল সপ্তাহে ৪১৩টি কোম্পানির দুই হাজার ৬৭২ কোটি ৬৮ লাখ ৬০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। সেখানে সপ্তাহটিতে ব্র্যাক ব্যাংকের ৮৫ কোটি ৫৭ লাখ ৬০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা মোট লেনদেনের তিন দশমিক ২০ শতাংশ।
গত বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির পিই রেশিও দাঁড়ায় ৯ দশমিক ৩০ পয়েন্টে। পিই রেশিও অনুসারে কোম্পানিতে বিনিয়োগ নিরাপদে রয়েছে। পুঁজিবাজারের কোনো কোম্পানির পিই রেশিও যদি সিঙ্গেল ডিজিটে থাকে, তাহলে সেখানে বিনিয়োগ সম্পূর্ণ নিরাপদ ধরে নেওয়া হয়। এছাড়া পিই রেশিও ডিজিট যদি ১৫ পয়েন্ট পর্যন্ত অবস্থান করে, তবে সেখানেও বিনিয়োগ নিরাপদ বলে ধরা হয়ে থাকে। তবে, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনও (বিএসইসি) মার্জিন ঋণের যোগ্যতা হিসাবে সর্বোচ্চ ৪০ পিই রেশিও বেঁধে দিয়েছে। সেই হিসেবে ৪০ পর্যন্ত পিইধারীর শেয়ার বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ বলে জানায় বিএসইসি। অর্থাৎ পিই রেশিও ৪০ এর ওপরে গেলে বিনিয়োগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। পিই রেশিও যত বাড়বে ঝুঁকির মাত্রা তত বাড়তে থাকবে।
কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, গত বছরের (২০২৫) তৃতীয় প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর) আর্থিক প্রতিবেদনে ব্র্যাক ব্যাংকের সমন্বিত শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে দুই টাকা ৫৩ পয়সা। আগের বছরের (২০২৪) একই সময়ে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল এক টাকা ৭৫ পয়সা। গত বছরের তিন প্রান্তিক (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) ব্যাংকের সমন্বিত শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ছয় টাকা ৯ পয়সা। আগের বছরের (২০২৪) একই সময়ে (জানুয়ারি-জুন) শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল চার টাকা ৩৭ পয়সা। গত বছরে কোম্পানিটির তিন প্রান্তিকে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নগদ প্রবাহ হয়েছে ৬৩ টাকা তিন পয়সা। আগের বছর একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নগদ প্রবাহ ছিল ৪৪ টাকা এক পয়সা। গত ৩০ সেপ্টেম্বর কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ৫১ টাকা ৭৩ পয়সা।
এর আগে ২০২৪ সমাপ্ত বছরে (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) জন্য বিনিয়োগকারীদের জন্য ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে। এর মধ্যে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ ও ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ। কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হয়েছিল গত ১৯ জুন বেলা ১১টায়। কোম্পানিটির রেকর্ড ডেট ছিল গত ২৫ মে। ওই বছরে কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছিল ছয় টাকা ৯৫ পয়সা। সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নগদ প্রবাহ হয়েছিল ৬০ টাকা ৯১ পয়সা। সমন্বিত শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছিল ৪৪ টাকা ১১ পয়সা। ২০২৪ সালে ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংকটির দীর্ঘমেয়াদি লোন দাঁড়িয়েছিল পাঁচ হাজার ৩৪ কোটি ৭৬ লাখ ১০ হাজার টাকা।
২০০৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ব্র্যাক ব্যাংক। ‘এ’ ক্যাটাগরির এই কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন পাঁচ হাজার কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন এক হাজার ৯৯০ কোটি ৯২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। শেয়ার সংখ্যা ১৯৯ কোটি ৯ লাখ ২৬ হাজার ১৬৭টি। রিজার্ভে রয়েছে পাঁচ হাজার ৪২৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।
৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে কোম্পানিটির উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে ৪৬ দশমিক ১৭ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ১১ দশমিক ৫৯ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে ৩৬ দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ছয় দশমিক ১৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক