৩০০ বছরের প্রাচীন নিদাড়িয়া মসজিদ
লালমনিরহাটের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অন্যতম নিদর্শন ৩০০ বছরের পুরোনো ‘নিদাড়িয়া মসজিদ’ এখন বিলুপ্তির পথে। দীর্ঘ সময়ের অযত্ন, অবহেলা এবং প্রাকৃতিক ক্ষয়ে মুঘল স্থাপত্যরীতির এই অনন্য স্থাপনাটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ঐতিহাসিক এই সম্পদ রক্ষায় দ্রুত সংস্কার ও সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মসজিদের দেয়ালে থাকা শিলালিপি অনুযায়ী, ১১৭৬ হিজরি সনে মুঘল সুবেদার মাসুদ খাঁ এবং তার পুত্র মনছুর খাঁর তত্ত্বাবধানে এটি নির্মিত হয়। লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের কিশামত নগরবন্দ মৌজায় অবস্থিত এই এক কক্ষবিশিষ্ট মসজিদটি দৈর্ঘ্যে ৪২ ফুট এবং প্রস্থে ১৬ ফুট। এর উপরিভাগে তিনটি গম্বুজ, চার কোণায় চারটি পিলার এবং সামনে একটি প্রবেশদ্বার রয়েছে। পাশে একটি দোচালা ঘর রয়েছে, যা এক সময় ইমামের আবাসস্থল বা স্টোররুম হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
মসজিদটির ‘নিদাড়িয়া’ নাম নিয়ে এলাকায় একটি কৌতূহলোদ্দীপক জনশ্রুতি প্রচলিত আছে। স্থানীয়দের মতে, সুবেদার মনছুর খাঁ মানত করেছিলেন- মুখে দাঁড়ি গজালে তিনি একটি মসজিদ নির্মাণ করবেন। পরে তার মুখে মাত্র তিনটি দাঁড়ি গজায় এবং সেই স্মারক হিসেবেই তিনি এই তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটি নির্মাণ করেন। সেই থেকেই এর নাম হয় ‘নিদাড়িয়া’। বর্তমানে মসজিদটির ছাদে ফাটল ধরেছে এবং কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ফয়জার রহমান জানান, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অনুমতি ছাড়া সংস্কার করা সম্ভব নয় বলে তারা নিজেরা কিছু করতে পারছেন না। এছাড়া মসজিদের নামে দান করা ১০ একর ৫৬ শতক জমির একটি বড় অংশ বর্তমানে অবৈধ দখলে থাকায় জটিলতা আরও বেড়েছে। বর্তমানে ওই জমি উদ্ধার নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।
বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত এই প্রাচীন স্থাপনাটি নিয়ে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এইচ এম রকিব হায়দার জানান, নিদাড়িয়া মসজিদের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় এর সংস্কার ও বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)