রাবিতে শীতের আমেজ, মোড়ে মোড়ে ভাপাপিঠা
বছর ঘুরে আবারও বাংলার প্রকৃতিতে এসেছে কুয়াশার চাদর মোড়ানো শীত। সেই সঙ্গে কমে এসেছে রোদের প্রখরতা। আর তাতে রয়েছে এক ধরনের হিমেল পরশ। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে হিম ভাবের তীব্রতা যেন একটু বেড়েই যায়। আর এই শীতের আগমনীকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে দেখা মিলছে ভাপাপিঠার দোকান।
কুয়াশাচ্ছন্ন গোধূলী। আকাশের রক্তিম আভা এখনো শেষ হয়নি। এমন সময়ে জমে উঠেছে পিঠার দোকানগুলো। হাওয়ায় ভাসছে মিষ্টি ভাপাপিঠার গন্ধ।
মাটির হাঁড়ি। মাঝ বরাবর বড় ছিদ্র করা মাটির ঢাকনা। হাঁড়িতে ছিদ্র করা ঢাকনা লাগিয়ে আটা গুলিয়ে ঢাকনার চারপাশে ভালোভাবে মোড়ানো, যাতে করে হাঁড়ির ভিতরে থাকা গরম পানির ভাপ বের হতে না পারে। ছোট গোল বাটি জাতীয় পাত্রে চালের গুঁড়া আর তাতে খানিকটা খেঁজুর গুঁড় বা আঁখের গুঁড় আর নারিকেল দিয়ে আবার কিছু চালের গুঁড়া দিয়ে বাটিটি পাতলা কাপড়ে পেঁচিয়ে ঢাকনার ছিদ্রের মাঝখানে বসিয়ে দেওয়া হয়। এভাবে দুই-তিন মিনিট ভাপে রেখে সিদ্ধ হয়ে তৈরি হয় মজাদার ভাপাপিঠা। নতুন গুড় আর নতুন চালের গুঁড়া দিয়ে তৈরি হয় এসব পিঠা।
গ্রামে শীতের সকালে কাঁপতে কাঁপতে উনুনের পাশে বসে পিঠা খাওয়ার দৃশ্য হয়তো বা দেখা মিলবে না ক্যাম্পাসে। তবে সকাল-সন্ধ্যায় ভিড় করে ভাপাপিঠা খাওয়ার দৃশ্যও কম সুখকর নয়।
পিঠা খেতে খেতে কথা হলো ফলিত পদার্থ বিজ্ঞান ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হোসাইন আলীর সঙ্গে। তিনি বললেন, ‘বাসায় গিয়ে এখন তো পিঠা খাওয়ার সুযোগ নেই। তাই বছরের প্রথম ভাপাপিঠা দোকান থেকেই খেলাম। বাসার সবাইকে খুব মিস করছি। পরিবারের সবার সঙ্গে শীতের পিঠা খাওয়ার মজা ও অনুভূতিটাই আলাদা।’
ভাপাপিঠার আকারের ওপর ভিত্তি করে পাঁচ টাকা থেকে ১০ টাকা করে বিক্রি করে দোকানিরা। এসব ভাপাপিঠার দোকানে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে রমরমা বেচাকেনা। ভ্রাম্যমাণ পিঠার দোকানের বেশির ভাগের মালিকই হতদরিদ্র। যত দিন প্রকৃতিতে শীত থাকবে তত দিন দেখা মিলবে এসব ভাপাপিঠার দোকান।

ইয়াজিম ইসলাম পলাশ