উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রকৌশলীদের দূরদর্শী হতে হবে : রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেছেন, দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে প্রকৌশলীদের অবশ্যই দূরদর্শী ও সৃজনশীল হতে হবে। কারণ, তাঁদের মেধা, বুদ্ধি ও সৃষ্টিশীলতা থেকেই দেশের জন্য যেকোনো টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা বেরিয়ে আসে।
আজ সোমবার বেলা আড়াইটায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এই সমাবর্তন হয়।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ২০১৫ অথবা ২১০০ সালে বাংলাদেশের জন্য উন্নয়নের ধরন কী হবে বা সেই সময়ে বাংলাদেশ কোন পর্যায়ে পৌঁছাবে, আমাদের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করার ক্ষেত্রে এগুলো বিবেচনা করতে হবে।
আবদুল হামিদ সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাপক সম্ভাবনাময় একটি দেশ, যেখানে রয়েছে বিপুল মানবসম্পদ এবং উর্বর ভূমি। জনবহুল এই দেশের উন্নয়নের জন্য আমাদের এই সম্পদ পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
রাষ্ট্রপতি চুয়েটের নতুন গ্র্যাজুয়েটদের অভিনন্দন জানান। তিনি দেশ ও জনগণের প্রতি তাঁদের দায়িত্ব সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দেন এবং দেশের কল্যাণে নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার জন্য তাঁদের প্রতি আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি গবেষণা কাজে গুরুত্বারোপ এবং সময়োপযোগী পাঠ্যসূচি প্রণয়ন করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান- যাতে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে নিজেদের তৈরি করতে পারে।
সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিশিষ্ট প্রকৌশল শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান। স্বাগত বক্তব্য দেন চুয়েটের উপাচার্য ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম। ধন্যবাদসূচক বক্তব্য দেন চুয়েটের উপ-উপাচার্য ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম। মঞ্চে আরো উপবিষ্ট ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. হযরত আলী, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আশুতোষ সাহা, যন্ত্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মাহববুবুল আলম, তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন ড. মাহমুদ আবদুল মতিন ভূইয়া, স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন ড. মো. মোস্তফা কামাল এবং রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. ফারুক-উজ-জামান চৌধুরী।
১৬ অক্টোবর ২০১২ থেকে ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ তারিখের মধ্যে চুয়েট থেকে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা এ সমাবর্তনে অংশ নেয়। এ ছাড়া দেশি-বিদেশি আমন্ত্রিত অতিথি, সংসদ সদস্য, রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তি মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন আমন্ত্রিত অতিথিসহ প্রায় তিন হাজার অতিথি ছিলেন।
এবারের সমাবর্তনে মোট এক হাজার ৬০৩ জনকে ডিগ্রি দেওয়া হয়। এর মধ্যে স্নাতক রয়েছেন এক হাজার ৫৬৪ জন, মাস্টার্স ৩২ জন, পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা চারজন এবং পিএইচডি তিনজন। কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য সমাবর্তনে চারজনকে গোল্ড মেডেল দেওয়া হয়।
এর আগে শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে সমাবর্তনের অনুষ্ঠান শুরু হয় এবং সমাবর্তনের মূল অনুষ্ঠান শেষে প্রাক্তন গ্রাজুয়েটদের নিয়ে একটি পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

আরিচ আহমেদ শাহ, চট্টগ্রাম