জাবি ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রের বিরুদ্ধে। গতকাল বুধবার এ ঘটনার বিচার চেয়ে প্রক্টর বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী ছাত্রী। অভিযুক্ত আশিক আহমেদ সিজার ইংরেজি বিভাগের ৪০তম ব্যাচের ছাত্র।
লিখিত অভিযোগপত্রে ছাত্রী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের আশিক আহমেদ সিজার আমাকে নানা সময়ে ফোন ও ফেসবুকে বিরক্ত করে আসছিলেন। একদিন চা খাওয়ার আমন্ত্রণ জানালে আমি সেখানে উপস্থিত হই, তিনি আমার সঙ্গে অনৈতিক আচরণ করেন। আমি তাকে বাধা দিলে তিনি আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। আমি চিৎকার করার চেষ্টা করলে তিনি আমার মুখ চেপে ধরেন। আমি নিষেধ করা সত্ত্বেও তিনি বারবার আমাকে ফোনে বিরক্ত করে চলছিলেন। গতকাল (মঙ্গলবার) আমি তাঁকে ফোন করে ডেকে আমার হলের সামনে আসতে বলি, ঘটনার মীমাংসা করতে। তিনি আমাকে হাঁটতে হাঁটতে সামনে এগিয়ে নিয়ে পুনরায় যৌন হয়রানি করার চেষ্টা করেন। আমার ওড়না ধরে টানাটানি করেন। এ পর্যায়ে আমার সহপাঠীরা উপস্থিত হলে তিনি পালিয়ে যান। এর পর আমার সহপাঠীরা আমাকে হলে ফিরিয়ে দিয়ে আসেন।’
এ ছাড়া অভিযোগপত্রে প্রশাসনের কাছে সিজারের শাস্তি ও নিজের নিরাপত্তা কামনা করেন ওই ছাত্রী।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফেসবুকে বিরক্ত করার কথা অস্বীকার করে আশিকুর রহমান সিজার এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘মেয়েটি যে অভিযোগগুলো লিখছে- আমি নাকি তাকে ফেসবুকে চা খাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছি, তাকে দেখা করতে নিয়ে গিয়েছি এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। তার সঙ্গে আমার পরিচয় ধ্বনির (বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন) কর্মশালা করতে গিয়ে। ফেসবুকে আমার মেসেজ লিস্ট আছে, সেখানে প্রমাণ আছে আমি তাকে আদৌ চা খাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছি কি না। সে মেয়ে নিজেই আমাকে ফোন করে দেখা করতে চেয়েছে। তার সাথে আমার দুই বার দেখা হয়েছে, দুই বারই সে আমাকে ডেকে নিয়ে গেছে।’
ওড়না ধরে টানাটানি ও মাটিতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে সিজার বলেন, ‘তার সঙ্গে দেখা করতে গেলে সে আমাকে নির্জন স্থানের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তার বন্ধুদের একত্রিত করে আমাকে টানাটানি শুরু করে এবং ফিজিক্যালি আমাকে লাঞ্ছিত করে। পরে সে স্বীকার করেছে, পুরো ঘটনাটা ছিল একটা ফাঁদ এবং তার বন্ধুরা আমাকে মারার জন্য লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রস্তুত ছিল।’
এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। যৌন হয়রানি করে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে, অভিযোগটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে সভা ডেকে যৌন নিপীড়ন সেলে অভিযোগটি প্রেরণ করা হয়েছে বলে কয়েকজন সহকারী প্রক্টরের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

জাবি সংবাদদাতা