বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের জন্য সংযোগ বিচ্ছিন্ন, হবিগঞ্জ পৌরসভা-বিপিডিবি মুখোমুখি
বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করার অভিযোগে হবিগঞ্জ পৌরসভা কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে হবিগঞ্জ পৌরসভা ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। বকেয়া বিলের পরিমাণ নিয়েও দুই দপ্তরের বক্তব্যে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের পার্থক্য। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
গতকাল মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে হবিগঞ্জ পৌরসভায় পানির বিল ও পৌরকর মেলা চলাকালে হঠাৎ পৌর কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় বিপিডিবি। এতে মেলায় সেবা নিতে আসা নাগরিকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সংযোগ বিচ্ছিন্নের ঘটনায় পৌর ভবনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিপিডিবির কর্মীদের ঘিরে ধরেন। পরে তাদের পৌরসভার হলরুমে নিয়ে আলোচনা করা হয়। আলোচনা শেষে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু করা হয়।
পৌর কর্তৃপক্ষের দাবি, সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার আগে তাদের কোনো ধরনের আগাম নোটিশ বা যোগাযোগ করা হয়নি। পৌর কার্যালয়ের কোনো বিদ্যুৎ বিল বকেয়া নেই বলেও দাবি তাদের। পৌরসভার হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ ছয় লাখ ৪৫ হাজার ৬০২ টাকা। এর সঙ্গে আগস্ট মাসের চলতি বিল পাঁচ লাখ ৪৩ হাজার ৯৭৩ টাকা যোগ করলে মোট বিল দাঁড়ায় ১১ লাখ ৮৯ হাজার ৫৭৫ টাকা। এই বিল পরিশোধের শেষ সময় ৩০ সেপ্টেম্বর এবং পরিশোধের প্রক্রিয়া চলমান থাকতেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
অন্যদিকে বিপিডিবি হবিগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুর মোর্শেদ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জানান, পৌরসভার সুইপার কলোনি, পাবলিক টয়লেট, পৌরসভার মসজিদ, পুরাতন পৌরসভা কার্যালয়সহ বিভিন্ন স্থাপনার বিদ্যুৎ সংযোগের বিপরীতে দীর্ঘদিনের প্রায় ৬২ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। বকেয়া বিল আদায়ের লক্ষ্যেই পৌরসভার প্রধান কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল।
তবে জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পৌরসভার পানির পাম্পগুলোর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়নি বলে জানান নির্বাহী প্রকৌশলী। এসব পাম্পের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় এক থেকে দেড় লাখ মানুষ পানি সরবরাহের সুবিধা পান।
পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, কোনো ধরনের আগাম বার্তা না দিয়েই বিপিডিবি পৌর কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। এতে পৌরসভার নিয়মিত কার্যক্রম ব্যহত হয়। বিপিডিবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে তথ্য দিয়েছে, তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে দুই দপ্তরের বক্তব্যে বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ নিয়ে বড় ধরনের পার্থক্য থাকায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পৌরসভা যেখানে প্রধান কার্যালয়ের বিল ১১ লাখ ৮৯ হাজার ৫৭৫ টাকার হিসাব তুলে ধরছে এবং পরিশোধের সময়সীমা ৩০ সেপ্টেম্বর বলে দাবি করছে, সেখানে বিপিডিবি বিভিন্ন স্থাপনা মিলিয়ে প্রায় ৬২ লাখ টাকা বকেয়া থাকার কথা বলছে।
ফলে কোন কোন বিদ্যুৎ সংযোগের বিপরীতে কত টাকা বিল বকেয়া রয়েছে, পৌরসভার হিসাব ও বিপিডিবির দাবির মধ্যে পার্থক্যের কারণ কী এবং সংযোগ বিচ্ছিন্নের আগে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না—এসব প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা।

মো. সেলিম মিয়া, হবিগঞ্জ