কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং-বিরোধী অভিযানে আটক ১২৯৩, মুচলেকায় মুক্ত ৫৯৭
কুমিল্লা জেলাব্যাপী কিশোর গ্যাং-বিরোধী সাঁড়াশি অভিযানে তিন দফায় মোট এক হাজার ২৯৩ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে মুচলেকায় মুক্ত হয়েছে ৫৯৭ জন। অপরাধে সম্পৃক্ততা না থাকলে কাউকে হয়রানি করা হবে না বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।
আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে কিশোর গ্যাং-বিরোধী সাঁড়াশি অভিযান সম্পর্কে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এনটিভি অনলাইনকে এ তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার জানান, গতকাল রোববার সন্ধ্যা ৭টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের সমন্বয়ে ফের নগরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে তিনিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি অংশ নেন। জেলার ১৮ থানায় একযোগে পরিচালিত সর্বশেষ অভিযানে ৪১৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, এর আগে কিশোর গ্যাংবিরোধী পৃথক দুটি সাঁড়াশি অভিযানে ৬২৪ ও ২৫৪ জনকে আটক করা হয়েছিল। সর্বশেষ ৪১৫ জনসহ তিন দফায় আটকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২৯৩ জনে।
আগের দুই অভিযানে যাচাই-বাছাই শেষে ৫৯৭ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আদালতে পাঠানো হয় ২৮১ জনকে। সর্বশেষ অভিযানে আটক ৪১৫ জনের বিষয়ে চলছে যাচাই-বাছাই। অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ধারাবাহিক সাঁড়াশি অভিযানে স্বস্তি ফিরেছে নগরবাসীর মধ্যে। তবে অভিযানের নামে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হয, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয়রা।
নগরীর বাসিন্দা সুমন আহমেদ বলেন, নগরীতে চুরি-ছিনতাই বেড়ে যাওয়ায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছিল। পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ কমছে। তবে অভিযানে কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক, কিশোর-তরুণদের নিরাপদ রাখা এবং অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো নাগরিক যেন হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অভিযানে কোনো পুলিশ সদস্যের এ বিষয়ে সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা