ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে শামীমার মরদেহ, স্বামী পলাতক
গাজীপুরের শ্রীপুরে শামীমা আক্তার (২৬) নামে এক পোশাক শ্রমিকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পূর্বখণ্ড এলাকার বেপারী বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী সুমন মিয়া পলাতক রয়েছেন।
নিহত শামীমা ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার উত্তর পঞ্চনন্দপুর গ্রামের কাজল মিয়ার মেয়ে। তিনি স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। প্রায় দুই বছর আগে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার সুমন মিয়ার সঙ্গে পারিবারিক সম্মতিতে তার বিয়ে হয়। এটি উভয়েরই দ্বিতীয় বিয়ে ছিল।
নিহতের বাবা কাজল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি সুমন মাদক ও অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েন। এসব নিয়ে দম্পতির মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। এরই জের ধরে রোববার রাত ১০টার দিকে সুমন শামীমাকে ব্যাপক মারধর করেন, এতে শামীমার নাকের হাড় ভেঙে যায়। পরবর্তীতে পারিবারিক সালিশে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়।
পরবর্তীতে রাত ১টার দিকে সুমন শামীমার ভাই মোজাম্মেলকে ফোন করে জানান যে শামীমা ঘরের দরজা খুলছেন না। মোজাম্মেল এসে ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে স্বজনদের জানান। পরে সকালে আবারও দরজা না খোলায় থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ গিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় শামীমার মরদেহ উদ্ধার করে।
শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাজহারুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আব্দুর রউফ, গাজীপুর (শ্রীপুর)