নিখোঁজের ৬ দিন পর নারীর মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার
নেত্রকোনায় নিখোঁজের ছয় দিন পর নাজমা আক্তার (৩৪) নামে দুই সন্তানের জননী এক নারীর মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজের ঘটনায় করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সূত্র ধরে তদন্তে নেমে পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের সাবেক স্বামী নুরুল আমীনকে (৪০) আটক করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নেত্রকোনা সদর উপজেলার মৌগাতী ইউনিয়নের খাটপুড়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত এবং পরে নুরুল আমীনের বাড়ির পাশে ঢুকিয়ালী নদীর পাড় থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় নাজমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত নাজমা আক্তার সদর উপজেলার কাটলী এলাকার ইসলাম উদ্দিনের মেয়ে। আটক নুরুল আমীন নগুয়া কুশলগাঁও গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশের দেওয়া ফ্ল্যাশ রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে নাজমা আক্তার নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই মো. শুভ মিয়া ২২ সেপ্টেম্বর নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি জিডি করেন। পুলিশ জিডির তদন্তে নেমে সন্দেহের ভিত্তিতে সাবেক স্বামী নুরুল আমীনকে আটক করে। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি নাজমাকে হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং মরদেহের অবস্থান নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, প্রায় ১৪ বছর আগে নাজমা আক্তার ও নুরুল আমীনের বিয়ে হয়। পারিবারিক কলহের জেরে তাদের একাধিকবার বিচ্ছেদ ও পুনর্মিলন ঘটে। তাদের ঘরে ছয় বছর ও আড়াই বছর বয়সী দুটি সন্তান রয়েছে। বর্তমানে তারা আলাদা থাকছিলেন। নাজমা তার সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে ভরণপোষণের মামলা করেছিলেন, পাশাপাশি তার করা একটি ধর্ষণ মামলাও পিবিআই তদন্ত করছিল।
হত্যাকাণ্ডের বিবরণ দিতে গিয়ে পুলিশ জানায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বড়বাজার এলাকায় দুজনের দেখা হলে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। পরে ভরণপোষণের ৬ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলে নাজমাকে রিকশায় রাজুর বাজারে এবং সেখান থেকে মোটরসাইকেলে খাটপুড়া ব্রিজ এলাকায় নিয়ে যান নুরুল আমীন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে টাকা নিয়ে পুনরায় তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে নাজমার বুকে সজোরে আঘাত করেন নুরুল। পরে তাকে পাশের শ্মশানঘাটে নিয়ে ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ড শেষে মরদেহ কাঁধে করে আধা কিলোমিটার দূরে নিজের বাড়ির পাশে ঢুকিয়ালী নদীর পাড়ে নিয়ে কোদাল দিয়ে গর্ত করে মাটিচাপা দেন তিনি।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল খায়ের বলেন, নুরুল আমীনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নাজমার ব্যবহৃত ওড়না, মোবাইল ফোন ও জুতা উদ্ধার করা হয়েছে এবং নদীপাড় থেকে মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হবে। পরিবারের লিখিত এজাহার পেলে নিয়মিত মামলা করা হবে। হত্যাকাণ্ডে অন্য কারো ইন্ধন বা সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তাও গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

ভজন দাস, নেত্রকোনা