বিয়ের এক বছরের মাথায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে তরুণীর মরদেহ
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় ভালোবেসে বিয়ের মাত্র এক বছরের মাথায় স্বামীর ঘর থেকে মিতু আক্তার (১৫) নামে এক তরুণী গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের চৌতাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মিতু আক্তার একই গ্রামের দুলু মিয়ার মেয়ে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে তিনি একই গ্রামের শাহিনের ছেলে শুভর (১৯) সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের পর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
পরিবার ও স্থানীয়দের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার রাতে শুভ বাড়ির পাশের পুকুরে সেচ পাম্প চালাতে যান। রাত ১০টার দিকে স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে সেচ পাম্প চালু করার পর মিতু ঘরে ফিরে তার পাঁচ বছর বয়সী ছোট বোনকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ৩টার দিকে শুভ তার স্ত্রীকে ডেকে নিয়ে সেচ পাম্পটি বন্ধ করান। এরপর মিতু ঘরে ফিরে গেলেও শুভ বাইরে ছিলেন। ভোরে ঘরে ফিরে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান শুভ। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকেই তিনি সিলিং ফ্যানের সঙ্গে মিতুর মরদেহ ঝুলতে দেখেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে পুলিশে খবর দেন।
নিহতের বাবা দুলু মিয়া বলেন, তাদের ভালোবেসে বিয়ে আমি মেনে নিয়েছিলাম। মেয়ে জামাইয়ের বাড়িতেই মারা গেছে, তবে এ ঘটনায় আমার কোনো অভিযোগ নেই।
এদিকে নিহতের বাবার কোনো অভিযোগ না থাকলেও স্থানীয়রা জানান ভিন্ন কথা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, শুভ এলাকায় মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত। স্বামীর মাদক সেবন নিয়ে দাম্পত্য কলহ ও অভিমান থেকেই মিতু আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়ে থাকতে পারেন বলে তারা ধারণা করছেন।
ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তারুল আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

এস আই পাভেল, জয়পুরহাট (কালাই-ক্ষেতলাল-আক্কেলপুর)