গণভোটের রায় সরকারকে অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে : এ টি এম আজহার
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, জুলাইয়ের শহীদরা শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন চাননি; তারা রাষ্ট্রের সংস্কার, আমূল পরিবর্তন এবং বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ চেয়েছেন। শহীদদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে গণভোটের রায় সরকারকে অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে। জুলাইয়ের শহীদ, শহীদ ওসমান হাদি হত্যাসহ সব বিচারবহির্ভূত হত্যার বিচার দৃশ্যমান করতে হবে।
আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হলরুমে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন জামায়াতের নায়েবে আমির।
এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে যে জনদুর্ভোগ চলছে, এর জন্য সরকারের ব্যর্থতা দায়ী। সরকার দায়িত্ব নিয়েই জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তারা মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। তারা সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দিলেও তা বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে সরকার। আমি সরকারের প্রতি আহ্বান জানাব—জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান জানান, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন।
সভায় সাংবাদিকরা তারাগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। তারা উপজেলার মাদক সমস্যা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেন এবং যেকোনো সংবাদ নির্ভয়ে প্রকাশের ক্ষেত্রে সহযোগিতা কামনা করেন।
এ টি এম আজহারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তাদের গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের বলা হয় সমাজের আয়না। আপনারা সেই আয়নার ভূমিকা পালন করবেন বলে আমি আশা করি। তাহলে আমাদের সমাজ ও দেশের অগ্রযাত্রায় আপনারা অংশীদার হতে পারবেন।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলে আমাদের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালানো হয়েছে, কিন্তু জনগণ এসব বিশ্বাস করেনি। বরং নির্বাচনে আমাদের ৬৮ জনকে এমপি নির্বাচিত করেছে। যদিও নির্বাচনের ফলাফলে ইঞ্জিনিয়ারিং করে আমাদের আসন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ভারতে পলাতক শেখ হাসিনার উদ্দেশে এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, সাহস থাকলে দেশে আসুন। আমরা চাই, আপনি দেশে এসে বিচারের মুখোমুখি হন। কিন্তু তা না করে ফাঁকা আওয়াজ দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। মানুষকে বিভ্রান্ত করার দিন শেষ। এখন স্বচ্ছতার রাজনীতি করতে হবে।
আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ প্রসঙ্গে জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, আমরা যেসব দাবিতে লংমার্চ করছি, তা কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর দাবি নয়; এগুলো দেশের জনগণের দাবি। দেশের ৭০ ভাগ জনগণ, যারা ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন, এটি তাদের দাবি। জুলাইয়ের শহীদরা শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন চাননি; তারা রাষ্ট্রের সংস্কার, আমূল পরিবর্তন এবং বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ চেয়েছেন। শহীদদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে গণভোটের রায় সরকারকে অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে। জুলাইয়ের শহীদ, শহীদ ওসমান হাদি হত্যাসহ সব বিচারবহির্ভূত হত্যার বিচার দৃশ্যমান করতে হবে।
এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর লংমার্চে ঢাকা থেকে রংপুর পর্যন্ত রাজপথে গণজোয়ার সৃষ্টি হবে। তিনি জনগণকে লংমার্চ কর্মসূচিতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি লং-মার্চের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ তুলে ধরার মাধ্যমে সাংবাদিকদেরও সহযোগিতার আহ্বান জানান।
সভায় উপজেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন তারাগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির এস এম আলমগীর হোসেন ও সেক্রেটারি মো. ইয়াকুব আলীসহ অন্যান্যরা।
সভা শেষে এ টি এম আজহারুল ইসলাম বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের নবনির্মিত ফকিরপাড়া জামে মসজিদ উদ্বোধন করেন। পরে তিনি তারাগঞ্জ উপজেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় যোগ দেন এবং হাড়িয়ারকুঠি মেনানগর পঞ্চায়েতপাড়া মসজিদের উদ্বোধন করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক