শিশু মৃত্যুর ঘটনায় পদ্মা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
রাজধানীর পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ মাস বয়সী শিশু আয়ান আব্দুল্লাহর মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জাহিদ রায়হান। গতকাল রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে শিশুটির মৃত্যু হয়।
শিশুর স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসায় অবহেলা এবং সকালে চিকিৎসক উপস্থিত না থাকায় তার মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, শিশুটি হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশুটি ডায়াবেটিসজনিত সমস্যায় ১৩ দিন ধরে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। বর্তমানে হাসপাতালটির এনআইসিইউতে ১৭টি শিশু ভর্তি রয়েছে। তাদের সবাইকে ঢাকা শিশু হাসপাতাল থেকে সেখানে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
শিশুটির মৃত্যুর পর রোববার মধ্যরাতে ফেসবুক লাইভে এসে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ করেন তার স্বজন আসিফ হাসান। তার ওই লাইভ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আসিফ হাসান অভিযোগ করেন, মৃত্যুর দিন বিকেল পর্যন্ত শিশুটি স্বাভাবিক ছিল। সন্ধ্যার দিকে তাকে খাবার খাওয়ানোর সময় ধীরে ধীরে শরীর নীল হয়ে আসতে থাকে। পরে পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়, শিশুটিকে লাইফ সাপোর্ট দিতে হবে। তারা শিশুটিকে দেখতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দেখতে দেয়নি। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তবে হাসপাতালটির মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুল হক সাংবাদিকদের বলেন, শিশুটির হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। একপর্যায়ে তার শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। পরদিনই শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তদন্তে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে তারা।
শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্বজন ও হাসপাতালের কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, উত্তেজিত স্বজনেরা হাসপাতালের মূল্যবান ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী নষ্ট করেছেন এবং কয়েকজন নার্সকে মারধর করেছেন। তবে এসব অভিযোগের সমর্থনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো সিসিটিভি ফুটেজ দেখাতে পারেনি। অন্যদিকে শিশুটির স্বজনেরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, হাসপাতালের কর্মীরাই প্রথমে তাদের ওপর চড়াও হন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
শিশুটির মৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়। স্বজনেরা জানান, ময়নাতদন্তে শিশুটির শরীর কাটাছেঁড়া করা হবে-এটি তার মা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না। এ কারণে তারা মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের জন্য নিয়ে যান।
তবে চিকিৎসায় অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে পরে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিশুটির স্বজনেরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক