সালমান শাহ হত্যা : রিমান্ড শেষে কারাগারে ডন
চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনকে পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এই আদেশ দেন। ঢাকার সিএমএম আদালতে আজ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের তদন্ত সংস্থা সিআইডির পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান আসামি আশরাফুল হক ডনকে পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে হাজির করে। এরপরে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
কারাগারে আটকের আবেদন বলা হয়েছে, আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সালমান শাহর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন ডন। ১৯৯২ সাল থেকে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আসামি সালমান শাহর সঙ্গে একাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। মামলার এজাহারের পলাতক আসামিদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাদের চেনেন বলে প্রকাশ করলেও মামলার অনেক তথ্য গোপন করছেন। সালমান শাহর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে আসামি একত্রে চলাফেরা করার কারণে তার সব তথ্য সম্পর্কে অবগত আছেন। সালমান শাহর মৃত্যুর বিষয় ও মামলার ঘটনার বিষয়ে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি অত্যন্ত কৌশলে কথা বলেন। তবে আসামির আচার-আচরণে, চালচলনে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে অনেক তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। যেহেতু ঘটনাটি অত্যন্ত আলোচিত ও চাঞ্চলকর, সেহেতু মামলার বিষয়ে পাওয়া সব তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। আসামি অত্যন্ত চতুর ও দুর্দান্ত প্রকৃতির লোক হওয়ায় মামলার ঘটনার বিষয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ন তথ্য গোপন করেছেন। মামলার তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনে আসামিকে পুনরায় আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সুতরাং, মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন।
এর আগে গত ২৭ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালত আশরাফুল হক ডনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠায়।
আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা (জিআরও) উপপরিদর্শক মো. শাহ আলম রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আসামির রিমান্ড শেষ হলে আজ আদালতে হাজির করা হয়েছে। এরপরে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
নথি থেকে জানা গেছে, চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার কারণে ডনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। ইমিগ্রেশন থেকে জানানোর পরে সিআইডি তাকে হেফাজতে নিয়েছে। সৌদি আরবে ওমরাহ পালনে যাওয়ার সময় তাকে আটক করা হয়।
এজাহারে যা বলা হয়েছে
সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসায় মারা যান। শুরুতে তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলা হলেও পরে এ নিয়ে হত্যা মামলা হয়। মামলাটির তদন্তে বিভিন্ন সময়ে একাধিক ব্যক্তির নাম এসেছে।
২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রমনা থানায় সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন—সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।

আদালত প্রতিবেদক