রাষ্ট্রপতিকে একনজর দেখতে ঠাকুরগাঁওয়ে মানুষের ঢল
‘হামার ঘরের লোক এত বড় পদে’—মনের আনন্দে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে একনজর দেখতে ঠাকুরগাঁওয়ে ছুটে এসেছেন পেশায় ভ্যানচালক আবদুল হালিম। শুধু হালিম নন, তাঁর মতো হাজারো মানুষের উল্লাসে ও উপস্থিতিতে মুখরিত এখন পুরো শহর।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলায় আসা ঘরের সন্তানকে বরণ করে নিতে আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও শহরজুড়ে নেমেছে সাধারণ মানুষের ঢল।
বেলা ১টার দিকে রাষ্ট্রপতিকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি ঠাকুরগাঁও শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। সেখান থেকে তিনি সরাসরি সার্কিট হাউসে যান এবং সশস্ত্র সালাম ও গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন। এরপর শহরের সেনুয়া এলাকায় মা-বাবার কবর জিয়ারত শেষে তিনি বাসভবনে কিছু সময় অবস্থান করেন।
বিকেলে ৩টা ৩০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে রাষ্ট্রপতি উপস্থিত হন নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে। এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ঠাকুরগাঁওয়ের পাঁচটি উপজেলাসহ আশপাশের এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ হেঁটে সংবর্ধনাস্থলের উপস্থিত হন। একপর্যায়ে শহরের বাসস্ট্যান্ড থেকে চৌরাস্তা পর্যন্ত পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। রাস্তার দুই ধারে মানুষ গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে থাকায় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
সংবর্ধনাস্থলে আসা হরিপুর সীমান্ত এলাকার কৃষক মো. হাবিব জানান, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। তবে নিজ এলাকার সন্তান দেশের সর্বোচ্চ পদে আসীন হওয়ায় উচ্ছ্বসিত হয়ে তিনি ছুটে এসেছেন। একইভাবে প্রিয় মানুষকে দেখতে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা থেকে এসেছেন মোজিরন বেগম ও মমতা বেগম।
ভুল্লী থেকে আসা বিএনপির সমর্থক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘হয়তো আর কখনও এভাবে তাঁকে (রাষ্ট্রপতি) দেখার সুযোগ নাও হতে পারে, তাই একনজর দেখতে ছুটে এসেছি।’
ঠাকুরগাঁও নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মোহাম্মদ খয়রুল কবির বলেন, ‘আমাদের ঘরের সন্তান দেশের সর্বোচ্চ পদে আসীন হয়েছেন—এটি ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে স্মরণীয় ও জমকালো সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে।’
দুই দিনের সরকারি সফরের দ্বিতীয় দিন আগামীকাল ৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

মো. আব্দুল্লাহ, ঠাকুরগাঁও (সদর-বালিয়াডাঙ্গী)