জাতিসংঘে মর্যাদা ও গুরুত্ব নিয়ে পৌঁছাবে বাংলাদেশ : শামা ওবায়েদ
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের আসন্ন অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ। তিনি জানিয়েছেন, এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশ কেবল সাধারণ অংশগ্রহণকারী হিসেবে নয়, বরং বিশেষ মর্যাদা ও বৈশ্বিক দায়িত্ব নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ পাবে।
আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ব্রিফিংয়ে শামা ওবায়েদ উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের অত্যাচার-অনাচারের পর দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গণতান্ত্রিক ধারা ফেরার পর প্রধানমন্ত্রী প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশ নেবেন। পাশাপাশি জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। সব দিক থেকেই এবারের সেপ্টেম্বর অধিবেশনটি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় মাইলফলক।
প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমাদের শান্তিরক্ষী বাহিনীর অসামান্য অবদানের জন্য জাতিসংঘ বাংলাদেশকে অত্যন্ত সম্মান করে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশিদের সাহসিকতা ও স্থিতিস্থাপকতাকে (রেজিলিয়েন্স) উচ্চ মর্যাদা দেয়।’
রোহিঙ্গা সংকটের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শামা ওবায়েদ সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত না থাকলে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা কঠিন হবে। তাই জাতিসংঘের এই আন্তর্জাতিক মঞ্চকে ব্যবহার করে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে বৈশ্বিক চাপ আরও জোরদার করা হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ আরও জানান, দেশের মূল পররাষ্ট্রনীতি ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবার বিশ্বদরবারে দেশকে তুলে ধরা হবে। সেখানে জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও অগ্রগতি বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি ও ‘বাংলাদেশ ইনভেস্ট’ আইন
অর্থনৈতিক কূটনীতিকে বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি ও বিপর্যস্ত ব্যাংকিং খাত পেয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে অর্থনীতিকে সঠিক পথে ফেরাতে ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিনিয়োগের সুবিধার্থে সরকার ‘বাংলাদেশ ইনভেস্ট’ নামে একটি আইন পাস করেছে। এর অধীনে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’-এর মতো সেবা চালু করা হচ্ছে, যাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নানা দপ্তরে না ঘুরে এক স্থান থেকেই সব সুবিধা দেওয়া যায়। অনলাইনে কোম্পানি নিবন্ধনসহ ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের কাজও চলছে, যেন প্রবাসী বাংলাদেশি এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীরা স্বাচ্ছন্দ্যে দেশে বিনিয়োগ করতে পারেন।
‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড’ ও ‘প্রবাসী কার্ড’ পরিকল্পনা
নাগরিকসেবা সহজীকরণে সরকারের নতুন ভাবনার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, একজন নাগরিকের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ছড়িয়ে থাকা তথ্য নিয়ে একটি সমন্বিত ডেটাবেজ (কনসোলিডেটেড ডেটাবেজ) তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড’ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।
শামা ওবায়েদ আরও বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ২০২৭ সালের মধ্যে প্রায় দুই লাখ প্রবাসীকে এই কার্ড দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত ২ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বিজয়ী হন। মোট ১৯০টি ভোটের মধ্যে তিনি ৯৯টি ভোট পান এবং তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকুরিসকে (৯১ ভোট) পরাজিত করেন। এই ঐতিহাসিক জয়ের মাধ্যমে বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক