অর্থসংকটে থমকে যাচ্ছিল সুষমার ঢাবি পড়ার স্বপ্ন, পাশে দাঁড়ালেন খাদ্যমন্ত্রী
একদিকে মেধা, অন্যদিকে দারিদ্র্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন পূরণ হলেও অর্থের সংকটে সেই স্বপ্ন থমকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল মানিকগঞ্জের গড়পাড়া ঘোনা গ্রামের সুষমা রানী দাসের। বাবাহারা এই তরুণীর উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে পরিবারে যখন দুশ্চিন্তা বাড়ছিল, তখন তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আফরোজা খান রিতা।
২৩ বছর বয়সী সুষমা বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। প্রায় ১৪ বছর আগে তার বাবা সেন্টু চন্দ্র দাস স্ত্রী যমুনা রানী দাস ও দুই মেয়েকে রেখে মারা যান। এরপর সীমিত আয়ের সংসারে দুই মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।
তবে অভাবের কাছে হার মানেননি সুষমা। মেধা ও অদম্য আগ্রহের জোরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পান তিনি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা, থাকা-খাওয়া ও অন্যান্য খরচ চালাতে গিয়ে আবারও আর্থিক সংকটে পড়ে পরিবারটি।
সুষমার এই সংকটের খবর খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খান রিতার কাছে পৌঁছালে তিনি নিজের অর্থায়নে তার পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করেন। গতকাল বুধবার (২৬ আগস্ট) সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমী নাসরিনের মাধ্যমে সেই সহায়তা সুষমার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পরিবারের বসবাসের ঘরটি মেরামতেরও আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী।
সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত সুষমার মা যমুনা রানী দাস। মেয়ের পড়াশোনা কীভাবে চালাবেন, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি। সহায়তা পাওয়ায় এখন মেয়ের উচ্চশিক্ষা চালিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন করে আশার আলো দেখছেন।
ইউএনও মৌসুমী নাসরিন বলেন, সুষমার আর্থিক সংকটের বিষয়টি খাদ্যমন্ত্রীকে জানানো হলে তিনি দ্রুত সহযোগিতার ব্যবস্থা করেন। পাশাপাশি পরিবারের ঘর মেরামতের বিষয়েও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, সুষমার মতো মেধাবী শিক্ষার্থীরা যেন অর্থের অভাবে উচ্চশিক্ষা থেকে ঝরে না পড়ে, সে বিষয়ে সরকার সবসময় পাশে রয়েছে। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষদেরও এ ধরনের শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই। একটি মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ানো মানে শুধু একজনকে সহযোগিতা করা নয়, বরং একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎকে এগিয়ে নেওয়া।

আহমেদ সাব্বির সোহেল, মানিকগঞ্জ