নামাজ আদায়রত অবস্থায় প্রবীণ ব্যবসায়ী তারা মিয়ার মৃত্যু
প্রতিদিনের মতোই অজু করে আল্লাহর ঘর মসজিদে এসেছিলেন আসরের নামাজ আদায় করতে। কেউ জানতেন না, এটাই হবে তাঁর জীবনের শেষ নামাজ। সালাম ফেরানোর পর পরই হঠাৎ মসজিদের ফ্লোরে লুটিয়ে পড়েন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌর এলাকার পূর্বপাড়ার বাসিন্দা ও পরিচিত তুলা ব্যবসায়ী মো. তারা মিয়া (৬৫)। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আজ রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে কটিয়াদী দরগাহ কলামহল জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। নামাজ শেষে উপস্থিত মুসল্লিরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানান, তিনি আর বেঁচে নেই।
মুসল্লি মো. জামাল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘তারা মিয়া মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি ছিলেন। প্রতিদিনের মতোই তিনি আসরের নামাজ আদায় করতে এসেছিলেন। কিন্তু আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে নামাজরত অবস্থাতেই তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন।’
তারা মিয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা হাসপাতালে এবং পরে তাঁর বাড়িতে ভিড় জমান। অনেকেই এমন মৃত্যু আল্লাহর বিশেষ রহমতের নিদর্শন বলে মন্তব্য করেন।
আজ রাত ১০টায় মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে কটিয়াদী দরগাহ জামে মসজিদ কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়। জানাজায় বিপুলসংখ্যক মুসল্লি, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী অংশ নিয়ে তার রূহের মাগফিরাত কামনা করেন।
মৃত্যুকালে তারা মিয় এক ছেলে ও তিন মেয়ে রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মাহবুবুর রহমান, কিশোরগঞ্জ (বাজিতপুর-কটিয়াদি-নিকলী-পাকুন্দিয়া)