দুর্নীতির মামলায় বেনজীরের বিরুদ্ধে আরও একজনের সাক্ষ্যগ্রহণ
অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে করা মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন বিটিএমসি বস্ত্র অধিদপ্তর (কারিগরি) সহকারী পরিচালক মো. ফয়সাল কবির। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে এ মামলায় সাক্ষ্য দেন তিনি।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী সোহানুর রহমান এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আজ বিটিএমসি বস্ত্র অধিদপ্তর (কারিগরি) সহকারী পরিচালক মো. ফয়সাল কবির আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। কিন্তু তিনি পলাতক থাকায় তার পক্ষে সাক্ষীদের জেরা হয়নি। বিচারক সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আগামী ১৭ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী নতুন দিন ধার্য করেন।
সোহানুর বলেন, এই মামলায় এ পর্যন্ত ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
নথি থেকে জানা গেছে, দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর এ মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ নভেম্বর বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে অভিযোগপত্র দাখিল করেন হাফিজুল ইসলাম।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বেনজীর আহমেদ তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ছয় কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ ও পাঁচ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন। তবে তদন্তে তার নামে সাত কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর ও আট কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়। এতে মোট ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের প্রমাণ মিলেছে। বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে পাওয়া গেছে ছয় কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা। ব্যয় বাদে নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় চার কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। ফলে বেনজীর আহমেদ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১১ কোটি চার লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেন।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, বেনজীর আহমেদ এসব অর্থের অবৈধ উৎস, প্রকৃতি ও মালিকানা গোপন করে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যৌথ মূলধনি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন।

আদালত প্রতিবেদক