জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি : সারজিস আলম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের প্রকৃত আকাঙ্ক্ষা ও উদ্দেশ্য এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। বরং ক্ষমতার দাদাগিরিসহ একটার পর একটা পুরোনো ও নোংরা কালচার আবারও আমাদের মাঝে ফিরে আসতে শুরু করেছে। আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে নাটোর শহরের স্বাধীনতা চত্বরে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে নাটোর শহরের আলাইপুর উত্তরা মার্কেটের সামনে থেকে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ শুরু হয়। পদযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রায় দেড় কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে স্বাধীনতা চত্বরে গিয়ে শেষ হয় এবং সেখানে এই সংক্ষিপ্ত পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
পথসভায় সারজিস আলম গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর আমরা এমন একটা নতুন বাংলাদেশ চেয়েছিলাম, যেখানে বিগত দিনের জুলুম, নির্যাতন, দুর্নীতি আর অপকর্ম মানুষকে আর সহ্য করতে হবে না। আমরা চেয়েছিলাম প্রত্যেকটি সরকারি অফিস-আদালত হবে সাধারণ মানুষের প্রকৃত সেবা পাওয়ার একটা আস্থার ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল। এমন একটা স্বাধীন গণমাধ্যম চেয়েছিলাম যেখানে প্রত্যেকটি মিডিয়া শুধু জনগণের পক্ষে এবং ইনসাফের পক্ষে নির্ভীকভাবে কথা বলবে। নতুন বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে হানাহানি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের রাজনীতি বন্ধ করে জনগণের কল্যাণে কাজ করার সুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবে—এমনটাই ছিল সাধারণ ছাত্র-জনতার মূল প্রত্যাশা। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, ক্ষমতার হাতবদলের সাথে সাথে আবারও সেই পুরোনো ও কলুষিত রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ফিরে এসেছে। তিনি দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে আরও বলেন, এবারের লড়াইটি কোনো সাধারণ লড়াই নয়; এটি হবে সম্পূর্ণ ন্যায় ও অন্যায়ের লড়াই এবং শাসক ও শোষিতের লড়াই। এই শোষণের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে এবং জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা করতে তিনি দেশের সর্বস্তরের সাধারণ মানুষকে এই নতুন লড়াইয়ে শরিক হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।
নাটোর জেলা এনসিপির উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশাল পদযাত্রা ও পথসভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদসহ দলের বিভিন্ন স্তরের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, জুলাই অভ্যুত্থানের আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্য এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ ছাত্র-জনতা অংশ নেন।

হালিম খান, নাটোর