বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের ব্যানার-ফেস্টুনে ছিল না প্রধানমন্ত্রীর কোনো ছবি
ব্যানার-ফেস্টুন দিয়ে সাজানো-গোছানো আয়োজন, সব মিলিয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক বর্ণাঢ্য পরিপাটি অনুষ্ঠান। তবে সেখানে ব্যতিক্রমী বিষয় ছিল— অনুষ্ঠানস্থলের কোথাও ছিল না প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কোনো ছবি। আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় আয়োজিত বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমন চিত্র দেখা যায়, যা আগত অতিথিদের অনেকেরই দৃষ্টি কেড়েছে।
সাভার থেকে আসা পরিবেশকর্মী সোলায়মান নিলয় বলেন, ‘এটা খুবই দৃষ্টি আকর্ষণ করার মতো ঘটনা। সাধারণত যেকোনো সরকারি বড় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ছবি বড় করে দেওয়া থাকে, কিন্তু আজকের অনুষ্ঠানের ব্যানারে প্রধানমন্ত্রীর কোনো ছবি নেই।’
সোলায়মান নিলয় বলেন, ‘দুদিন আগেই পত্রিকায় একটি নিউজ দেখেছিলাম- প্রধানমন্ত্রী নিজেই নির্দেশ দিয়েছেন, সরকারি অনুষ্ঠানে তাঁর ছবি যেন ব্যবহার না করা হয়। তার নির্দেশের প্রতিফলন আজকের অনুষ্ঠানে দেখছি। আগে দেখা গেছে, অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর একটি বড় ছবি থাকতো, আজকে নেই। সত্যি অসাধারণ ব্যাপার।’
গত ৫ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সংক্রান্ত নির্দেশে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ পরিপত্র জারি করে। পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকারি কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রস্তুতকৃত ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি (থ্রি ডি বা অন্য কোনো আঙ্গিকে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হলো। সরকারি অনুষ্ঠানে ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড প্রস্তুতের ক্ষেত্রে অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তুকে প্রাধান্য দিয়ে প্রয়োজনীয় ও সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করতে হবে। ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডের নকশা এমন ভাবে তৈরি করতে হবে যাতে অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে ও বার্তা ও বিষয়বস্তু সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
অনুষ্ঠানে বৃহৎ সম্মেলন কেন্দ্রের মূল মঞ্চে এবং চার পাশে দেয়ালে টানানো হয় পরিবেশ সংক্রান্ত নানা স্লোগান সম্বলিত ২০টি ব্যানার-ফেস্টুন।
এই ব্যানার-ফেস্টুনে কীভাবে পরিবেশ রক্ষা করা হবে, কীভাবে প্রাণীকুলসহ জীব বৈচিত্র্য ঠিক রাখা যাবে, কীভাবে গাছ রোপণ করা হবে, কীভাবে গাছের পরিচর্যা করতে হবে সেই সংক্রান্ত পরামর্শ ও নির্দেশনা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী) বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমান রাজনীতির যে গুণগত পরিবর্তনের কথা বলেছেন, এমন ঘটনা তারই বহিঃপ্রকাশ।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আফরোজা রোজা বলেন, ‘অতীতে দেখা গেছে প্রধানমন্ত্রীর ছবি বড় করে প্রচার করার প্রবণতা। যে জন্য মূল অনুষ্ঠানের বিষয় বোঝা যেতো না। ফলে অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য আড়ালে থেকে যেতো। তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই সংস্কৃতি থেকে সরে আসার উদ্যোগ নিয়েছেন, এটা অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। আপনি খোঁজ নিয়ে দেখেন- প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশ সবার মনে কথা। আমি এজন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে থ্যাংকস জানাতে চাই।’
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক, সরকারি ও বেসরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং পেশাজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)