নদী ভরাট করে বালুর স্তূপ, হুমকিতে নৌপথ ও পানিপ্রবাহ
দেশজুড়ে নদী-খাল খননের মাধ্যমে নৌপথ সচল রাখতে সরকারের নানামুখী উদ্যোগ চললেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ঘটছে ঠিক উল্টো চিত্র। উপজেলার পাকশিমুল এলাকায় তিতাস নদীর একটি বিশাল অংশে বালু ফেলে ভরাট করে রেখেছে একটি প্রভাবশালী মহল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বালু সরিয়ে নেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশ এবং লাল নিশানা টাঙিয়ে দেওয়া হলেও এখনও তা সরানো হয়নি।
বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই অবৈধ বালু ভরাটের স্থানটি পাকশিমুল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ঠিক পাশেই। নদীর বিশাল অংশে বালু ফেলে রাখায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে নৌযান চলাচলে বাধা সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি নদীর তীর ভাঙনের আশঙ্কাও বাড়ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এর ফলে আগামী শুষ্ক মৌসুমে কৃষি জমিতে সেচ কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সরাইল থেকে অরুয়াইল যাওয়ার পথে অরুয়াইল সেতুর পাশের দুটি স্থানে নদীর বড় অংশ জুড়ে বালু ফেলে রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি শক্তিশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে এখানে বালু মজুত ও বিক্রির পাশাপাশি নদীর বিভিন্ন অংশ ভরাট করে দখল করে রেখেছে। তারা দ্রুত এই বালু অপসারণ এবং নদীর অবৈধ দখল উচ্ছেদের জোর দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে অভিযুক্ত বালুর মালিক আকবর আলীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, জায়গাটি তিনি ভাড়া নিয়েছেন এবং মালিকানার সীমানার মধ্যেই বালু রেখেছেন। তবে বালু যদি নদীর অংশে চলে গিয়ে থাকে, তাহলে তা সরিয়ে নেওয়া হবে। নদীর বিভিন্ন অংশ আগেই দখল হয়ে গেছে। তবে তিনি নিজে নদী দখল করেননি।
পাকশিমুল ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কুমুদলাল দেবনাথ বলেন, বিষয়টি জানার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় নদীর অংশে লাল নিশান টাঙানো হয়েছে এবং বালু সরিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিহাব উদ্দিন বিপু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া