পাহারা দিয়ে ট্রান্সফর্মার চুরি বন্ধ করা সম্ভব না : বিদ্যুৎ মন্ত্রী
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, দীর্ঘ লাইন পাহারা দিয়ে ট্রান্সফর্মার চুরি বন্ধ করা সম্ভব না। তাই ট্রান্সফর্মার চুরি ঠেকাতে জনগণকে সচেষ্ট হতে হবে।
আজ রোববার (৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন জ্বালানি মন্ত্রী। এদিন অধিবেশন পরিচালনা করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সংসদে শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি আরেকটা ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ আছে, সেটা হচ্ছে আমাদের এলাকাতে ব্যাপক পরিমাণে ট্রান্সফর্মার চুরি হয়। চুরি হওয়ার পরে পল্লী বিদ্যুৎ (অফিস) থেকে বলা হয়, আপনারা এলাকা থেকে চাঁদা তুলে বা আপনারা গ্রাহকরা মিলে ৫০ শতাংশ টাকা ক্যাশ করেন। তারপরে আপনাদেরকে আমরা একটা ট্রান্সফার দেব। এই ট্রান্সফর্মার পাওয়ার জন্য প্রায় দুই আড়াই মাস পর্যন্ত চলে যায়। সেখানে যতক্ষণ পর্যন্ত গ্রাহকরা টাকা দিয়ে ট্রান্সফর্মার সংগ্রহ না করেন, ততক্ষণ পর্যন্ত সেখানে আর বিদ্যুৎ কাভার করে না।
শফিকুল ইসলাম মাসুদ আরও বলেন, বিদ্যুৎ মন্ত্রীর কাছে জানতে চাই, এই ট্রান্সফর্মার চুরি তো গ্রাহকদের কোনো ত্রুটি না। এটা হচ্ছে সরকার বা ওখানে প্রশাসনের যারা আছেন তাদের ব্যর্থতা। সেখানে গ্রাহকদের কেন টাকা দিয়ে আবার বিদ্যুতের ট্রান্সফর্মার নিতে হবে। এ বিষয়টি কীভাবে দেখছেন বিদ্যুৎ মন্ত্রী?
জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল বলেন, আমাদের পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের লাইন আছে লাখ লাখ কিলোমিটারের। এই লাইনগুলোতে ট্রান্সফর্মার থাকে। আমার মনে হয় না, কোনো দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই দীর্ঘ লাইন পাহারা দিয়ে ট্রান্সফর্মার চুরি করা বন্ধ করতে পারবে। এই ট্রান্সফর্মার চুরির যেসব এলাকাতে হয়, সেই এলাকাগুলোতে আমরা মাঝে মাঝে পুলিশ দিয়ে সার্চ করার চেষ্টা করি, কিন্তু সেগুলো পাওয়া যায় না। আমি অনুরোধ করব, এটা সরকারি জিনিস। আমাদের জনগণের জিনিস। এই জিনিসটা কিছু দুষ্কৃতকারীরা চুরি করে নিয়ে যাবে। এলাকার মানুষকে এ ব্যাপারে সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে, যেন তাদের এই কাজের জিনিসটা চুরি না হয়। আর তিনি (শফিকুল ইসলাম মাসুদ) যেটা বললেন, ট্রান্সফর্মার পেতে দেরি হয়। এ ব্যাপারে আমি দেখব যাতে তাড়াতাড়ি ট্রান্সফর্মার লাগানো হয়।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক