নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকে নেমে ২ শ্রমিকের মৃত্যু
বরগুনার আমতলী উপজেলায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের নতুন সেপটিক ট্যাংকের সাটারিং খুলতে নেমে দুই নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসে কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে আমতলী ফায়ার সার্ভিস।
আজ বুধবার (৩ জুন) সকাল ৯টার দিকে আমতলী পৌরশহরের একে স্কুল সংলগ্ন স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ মাওলানার নির্মাণাধীন বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
আমতলী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মো. হানিফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত দুই শ্রমিক হলেন উপজেলার হলদিয়া এলকার আব্দুল আজিজ হাওলাদারের ছেলে জাহিদুল ইসলাম (৩৫) এবং চাওড়া এলাকার ইউনুস হাওলাদারের ছেলে আবু জাফর (৫৫)।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, সকালে উপজেলার এ কে স্কুল সংলগ্ন ইউসুফ মাওলানার নির্মাণাধীন ভবনের নতুন তৈরি সেপটিক ট্যাংকের সাটারিং খোলার কাজ করতে যান জাহিদুল ইসলাম ও জাফর নামে দুই শ্রমিক। এ সময় ওই সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে প্রথমে প্রবেশ করেন জাহিদুল ইসলাম। তবে নামার পর পরই তিনি ভেতরে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করতে আবু জাফরও ট্যাংকের ভেতরে প্রবেশ করেন এবং তিনিও ভেতরে অচেতন হয়ে পড়েন। এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে উদ্ধার করে। পরে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. লুনা বিনতে হক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. লুনা বিনতে হক বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের কারণে তারা মারা গেছেন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মো. হানিফ বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অচেতন অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদাৎ মো. হাসনাইন পারভেজ বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

মাহমুদুর রহমান, বরগুনা (পাথরঘাটা-তালতলী)