একযুগ আগে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা করা সেতুতে লাখো মানুষের পারাপার
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চনপাড়া এলাকায় বালু নদের ওপর নির্মিত ডেমরা-চনপাড়া সেতুটি এখন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে সেতুটি ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করায় ঝুঁকি আরও বাড়ছে। অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি ধসে পড়লে রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম বন্ধ হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়বেন লাখো মানুষ।
সেতুটির বর্তমান বেহাল দশা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর তিনটি প্রধান পিলার, বিম ও রেলিংয়ের বিভিন্ন স্থানের পলেস্তারা ভেঙে পড়েছে। একটি পিলারের ভেতরের রডগুলো বের হয়ে রীতিমতো বাঁকা হয়ে গেছে। সেতুর নিচে ইটের জোড়াতালি দিয়ে কোনোমতে পিলার ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে। যানবাহন চলাচলের সময় পুরো সেতুটি বিপজ্জনকভাবে কেঁপে ওঠে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বালু নদ দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করা হাজার হাজার বালুবোঝাই বাল্কহেডের ধাক্কায় সেতুর পিলারগুলো ভেঙে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে এই মরণফাঁদ তৈরি হয়ে থাকলেও এটি মেরামত বা সংস্কারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। সেতুর পাশে নতুন একটি সেতু নির্মাণের কথা থাকলেও নানা জটিলতায় তা আটকে আছে।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯১ সালে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১১০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১২ ফুট প্রস্থের এই চনপাড়া-ডেমরা সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এরপর ২০০০ সালের দিকে সেতুটিতে প্রথম ফাটল দেখা দিলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ২০১২ সালে পিলারের পলেস্তারা খসে পড়া শুরু হলে এলজিইডি সেতুটিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা করে ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। দুর্ঘটনা এড়াতে সেতুর দুপাশে রড দিয়ে ব্যারিকেড এবং সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড দেওয়া হলেও কিছুদিন পর দুর্বৃত্তরা সাইনবোর্ডটি সরিয়ে ফেলে ও লোহার রড কেটে দেয়। বর্তমানে ডেমরা-কালীগঞ্জ সড়কের এই রুট দিয়ে প্রতিদিন ৭ শতাধিক সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বেবি-টেম্পো, প্রাইভেটকার ও পিকআপ চলাচল করছে।
সেতুটি দিয়ে যাতায়াতকারী চনপাড়া এলাকার গৃহবধূ মারিয়া আক্তার বলেন, আমাদের সপ্তাহে অন্তত একদিন এই সেতু পার হতে হয়। পার হওয়ার সময় ভয়ে দোয়া পড়ে বুকে ফুঁ দিয়ে পার হই, কখন যে ধসে পড়ে ঠিক নেই।
নগরপাড়া এলাকার বাসিন্দা কাজল বলেন, ডেমরায় বোনের বাড়ি যাওয়ার সময় এই সেতুতে উঠলেই কলিজা কেঁপে ওঠে।
ঝুঁকির বিষয়টি স্বীকার করে রূপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আকতার হোসেন জানান, সেতুটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এটি দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বলেন, বালু নদের ওপর নির্মিত চনপাড়া-ডেমরা সেতুর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়কে বিস্তারিত অবহিত করা হয়েছে। জনগুরুত্বপূর্ণ এই সেতুর স্থানে নতুন সেতু নির্মাণকাজ দ্রুতই শুরু হবে বলে আমরা আশা করছি।

শাকিল আহম্মেদ, নারায়ণগঞ্জ (রূপগঞ্জ)