ময়মনসিংহে প্রস্তুত সোয়া দুই লাখেরও বেশি কোরবানির পশু
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ময়মনসিংহের খামারগুলোতে সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে প্রস্তুত করা হয়েছে দুই লাখ ২৬ হাজার ১৪৮টি কোরবানির পশু। জেলায় নিজস্ব চাহিদা মিটিয়ে বড় একটি অংশ উদ্বৃত্ত থাকবে, যা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের পশুর ঘাটতি পূরণে ভূমিকা রাখবে। তবে বাজারে গো-খাদ্য, বিদ্যুৎ ও শ্রমিকের চড়া মূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পশুর দাম নিয়ে চিন্তিত খামারিরা। লোকসান এড়াতে তারা সরকারিভাবে ভারতীয় গরু আসা বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহের ১৩টি উপজেলায় মোট ২৪ হাজার ৪৭৮টি খামারে কোরবানির জন্য নিরোগ ও স্বাস্থ্যসম্মত পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উন্নত জাতের ষাঁড়, বলদ, মহিষ, গাভি ও ছাগল-ভেড়া। চলতি বছর জেলায় কোরবানির পশুর মোট চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৮১ হাজার ২৬৬টি। এর বিপরীতে প্রস্তুত আছে ২ লাখ ২৬ হাজার ১৪৮টি পশু। ফলে জেলায় এবার চাহিদার চেয়ে ৪৪ হাজার ৮৮২টি পশু উদ্বৃত্ত থাকছে। এই অতিরিক্ত পশু দিয়ে ময়মনসিংহের বাইরের বিভিন্ন জেলার চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।
এদিকে ঈদ ঘনিয়ে আসায় খামারগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা ও দরদাম শুরু হয়েছে। কর্মব্যস্ততা ও হাটের ঝামেলা এড়াতে অনেক ক্রেতাই এখন সরাসরি খামারে গিয়ে পছন্দের পশু কিনতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, খামারিরা পশুর যে দাম হাঁকছেন, তা সাধারণ ক্রেতাদের সাধ্য ও সামর্থ্যের বাইরে।
অন্যদিকে খামারিদের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের দাবি, সারা বছর ধরে চড়া দামে খড়, ভূসি ও অন্যান্য গো-খাদ্য কিনতে হয়েছে। এর ওপর রয়েছে বিদ্যুতের বাড়তি বিল ও শ্রমিকের চড়া মজুরি। ফলে পশুর উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। এই অবস্থায় কম দামে পশু বিক্রি করলে তাদের বড় অংকের লোকসান গুনতে হবে। তাই ভালো দামের আশায় খামারিরা ঈদ আরও ঘনিয়ে আসার অপেক্ষা করছেন।
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার খামারি কাজী হাদিউল ইসলাম ও শাহীন মোহাম্মদ আসিফ জানান, পশুর খাদ্যের দাম ও লালন-পালনের খরচ দিন দিন বাড়ছে। অনেক খামারি পুঁজি সংকটে ভুগছেন। তারা বলেন, খামারিদের যদি সরকারিভাবে ভর্তুকি মূল্যে ভ্যাকসিন, ওষুধ ও নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা সেবা দেওয়া হতো এবং বছর মেয়াদি স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা হতো, তবে দেশের ডেইরি খাত আরও এগিয়ে যেত। সারা বছর পশু লালন-পালন করে ঈদ মৌসুমে তা বিক্রি করে খামারিরা সহজেই সেই ঋণ পরিশোধ করতে পারতেন।
খামারিদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশ নিয়ে। তাদের দাবি, সীমান্ত দিয়ে চোরাই পথে ভারতীয় গরু এলে তারা কোনোভাবেই লাভের মুখ দেখতে পারবেন না। যদি ভারতীয় গরু আসা পুরোপুরি বন্ধ করা যায়, তাহলে লাভ কম হলেও অন্তত লোকসানের হাত থেকে বাঁচা সম্ভব হবে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ওয়াহেদুল আলম বলেন, জেলায় চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত অতিরিক্ত পশু প্রস্তুত রয়েছে, যা দেশের অন্য প্রান্তে সরবরাহ করা যাবে। তাই খামারিদের উপযুক্ত দাম না পাওয়ার কোনো শঙ্কা নেই। দেশীয় খামারিদের স্বার্থ সুরক্ষায় ভারতীয় পশু আসা বন্ধ করতে প্রশাসনকে কঠোর অবস্থানে থাকতে হবে। এছাড়া এবার হাটে হাটে মেডিকেল ভিজিল্যান্স টিম থাকবে এবং ক্রেতারা যাতে সুস্থ ও নিরোগ পশু কিনতে পারেন, সেজন্য খামার পর্যায়েও নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।

আইয়ুব আলী, ময়মনসিংহ