কুমিল্লায় বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে মা-মেয়ে নিহত, চালক আটক
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে মা ও চার বছরের এক শিশুকন্যা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় চালকসহ আরও চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার (১৮ মে) দুপুরে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের নবগ্রাম এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—চৌদ্দগ্রাম পৌর এলাকার বালুজুড়ি গ্রামের নুর ইসলাম মিয়ার স্ত্রী জেসমিন আক্তার (৪২) ও তার মেয়ে নুসরাত জাহান (৪)। আহতরা হলেন—নাটাপাড়া গ্রামের জাফর আহম্মেদের স্ত্রী মমতাজ বেগম, একই গ্রামের ফুল মিয়ার স্ত্রী সাফিয়া বেগম, এতিম আলীর স্ত্রী কহিনুর বেগম এবং অটোরিকশাচালক নিজাম উদ্দিন। গত রাত ১১টায় মিয়াবাজার হাইওয়ে পুলিশের সার্জেন্ট আবদুল জাব্বার দুর্ঘটনার বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে চৌদ্দগ্রাম বাজারে পারিবারিক কেনাকাটা শেষে একটি অটোরিকশায় করে বাড়ি ফিরছিলেন যাত্রীরা। পথে নবগ্রাম এলাকায় অটোরিকশাটি উল্টো পথে চলার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা ‘কে কে ট্রাভেলস’ ব্যান্ডের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই যাত্রী জেসমিন আক্তারের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক রবিউল হাসান জানান, জেসমিন আক্তারকে হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা যান। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লায় পাঠানো হয়। এদের মধ্যে গুরুতর আহত শিশু নুসরাত জাহানকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় তারও মৃত্যু হয়।
মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেন বলেন, আইনি প্রক্রিয়া ও প্রাথমিক সুরতহাল শেষে মা-মেয়ের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুহুল আমিন জানান, এই ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে ঘাতক বাসের চালক শাফায়েত হোসেন আশিককে আটক করা হয়েছে। আটক চালকের বাড়ি নোয়াখালীর কবিরহাট এলাকায়। এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা