গাইবান্ধায় চরাঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ে বহু ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড, আহত শতাধিক
গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র নদে আটটি দুর্গম চরাঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড়ে পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়িসহ গাছপালা ভেঙে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। এসব এলাকার অন্তত চার শতাধিক পরিবার খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। আহত হয়েছে শিশু-মহিলাসহ শতাধিক ব্যক্তি। রোববার (১৭ মে) দিনগত গভীর রাতে এ ঘূর্ণিঝড় বয়ে যায়।
ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর জানে না প্রশাসনের লোকজন। সে কারণে সরকারি-বেসরকারি কোনো সহযোগিতাও পায়নি তারা। সোমবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে এসব মানুষ।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মঞ্জু মিয়া জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে হঠাৎ বৃষ্টির সঙ্গে ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়। এতে উপজেলার কাপাসিয়া, শ্রীপুর, হরিপুরসহ অন্তত আটটি গ্রামের ঘরবাড়ি, স্কুল-মাদ্রাসাসহ অন্তত চার শতাধিক ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। ঘরবাড়ি ও মালপত্র হারিয়ে অনেকেই রাত থেকেই খোলা আকাশের নিচে আছে।
গণমাধ্যমকর্মীরা খবর পেয়ে সকালে চরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে এ অবস্থা দেখতে পান। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তরা তাদের ভেঙেপড়া ঘরের সামনে নিরুপায় হয়ে বসে আছে।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি বলেন, ঝড়ে সুন্দরগঞ্জ পৌর এলাকাসহ চরাঞ্চলের অনেক ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে। আপাতত ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণের জন্য কাজ চলছে। কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে এই মুহূর্তে তা বলা মুশকিল।
সদর উপজেলার চরখারজানি গ্রামের ইউপি মেম্বার আসাদুর জানান, হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে ব্রহ্মপুত্র নদীর দুর্গম চর খারজানি, বুলবুলির চর, বাটিকামারী, হারোডাংগাসহ আটটি গ্রামে। মুহূর্তের ঝড়োহাওয়ায় ওই চরাঞ্চলের চার শতাধিক ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। মাটির সঙ্গে মিশে গেছে ঘরের আসবাবপত্র, ধান-চাল, বিছানাপত্রসহ সব। এসব পরিবারের পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছু স্বাভাবিক নেই বলে জানান তিনি। ঝড়ের সময় অনেকেই পাশের গাছের আড়ালে গিয়ে নিজেকে রক্ষা করে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লা জানান, ঝড়ের কথা তিনি শুনেছেন। যথাযথ কর্তৃপক্ষকে ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণের জন্য বলা হয়েছে।

কৃষ্ণ কুমার চাকী, গাইবান্ধা