জামায়াতের মধ্যে কিছু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে : স্পিকার
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, জামায়াতে ইসলাম অবশ্যই ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে। কিন্তু বর্তমানে যারা জামায়াত নেতা, সংসদ সদস্য—তাদের অধিকাংশরই জন্ম স্বাধীনতার পরে। ’৭১ এ তাদের কোনো অংশগ্রহণ ছিল না বিরোধিতার ক্ষেত্রে। সে হিসেবে আমি মনে করি, তাদের মধ্যে কিছু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন স্পিকার।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জামায়াতে ইসলামী গতবার প্রথমবারের মতো শহীদ মিনারে গিয়েছে ভাষা দিবসে। শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করেছে। স্মৃতিসৌধেও প্রথমবারের মতো তারা গিয়েছে। সেজন্য আমি মনে করি, তাদের চিন্তাভাবনায় কিছু পরিবর্তন এসেছে। তারা বাস্তবতা মেনে নিয়েছে।
জামায়াত আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, বর্তমানে বিরোধী দলের নেতা একজন চমৎকার মানুষ। তিনি বলেন ভালো। অতীতের মতো বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা, এটি তার মধ্যে আমি লক্ষ্য করিনি।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ আরও বলেন, জামায়াতের সংসদ সদস্যদের মধ্যে একজন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন, নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরার। তাকে আগেও একটি সংসদে দেখেছিলাম। তাদের মধ্যে আগেও দুই-তিনজন মুক্তিযুদ্ধা ছিল। রাজবাড়ীর ডাক্তার আজাদ, আরও একজন সদস্য ছিল। তখন মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের পরিচয় দিতেন না মুক্তিযোদ্ধা বলে, কিন্তু এখন তারা গর্বের সঙ্গে পরিচয় দেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জামায়াতের মধ্যে আমি পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি। তারা বুঝতে পারছে স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থান নিয়ে রাজনীতি বেশি দূর যাওয়া যাবে না। মুক্তিযুদ্ধ মিমাংসিত বিষয়, একে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্বীকার করতে হবে, তাহলেই তারা বাংলাদেশের রাজনীতিতে টিকে থাকতে পারবে।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে অন্যকোনো আঁতেলদের কথায় যদি মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কোনো কথাবার্তা বলেন, যে-ই বলবে সে ইতিহাসের আস্থাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক