ব্র্যান্ড প্রমোটার তরুণীর মরদেহ উদ্ধার, পাশে চিরকুট
চুয়াডাঙ্গা শহরের শেখপাড়ার একটি ভাড়া বাসা থেকে মুমতাহেনা অহনা (২২) নামের এক তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার (২৯ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। এসময় মরদেহের পাশ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে নিজের মৃত্যুর জন্য প্রেমিককে দায়ী করেছেন ওই তরুণী।
নিহত মুমতাহেনা অহনা গোপালগঞ্জ জেলা সদরের বাসিন্দা। তিনি চুয়াডাঙ্গা সমবায় নিউ মার্কেট এলাকায় অবস্থিত ‘রংধনু গিফট গার্ডেন’-এ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড প্রমোটার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শেখপাড়ার ওই বাড়িতে তিনি একাই ভাড়া থাকতেন।
রংধনু গিফট গার্ডেনের স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান জুয়েল জানান, অহনা প্রায় এক বছর ধরে তার দোকানে কাজ করছিলেন। বুধবার সকালে তিনি দোকানে না আসায় বারবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে দুপুরে তার আত্মহত্যার খবর পাওয়া যায়।
জুয়েল আরও জানান, অহনা ডিভোর্সি ছিলেন এবং গত কয়েকদিন আগেই নতুন এই বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে উঠেছিলেন।
বাড়ির মালিক জানান, এক শিশু প্রথম জানালা দিয়ে অহনার ঝুলন্ত দেহ দেখতে পেয়ে সবাইকে জানায়। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
মরদেহের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া চিরকুটে অহনা তার মৃত্যুর জন্য শ্রাবণ রহমান জিতু নামক এক যুবককে দায়ী করেছেন। সেখানে তিনি লেখেন- “শ্রাবন রহমান জিতু, আমি তোমাকে অসম্ভবভাবে ভালোবাসতাম। তোমার ভয়াবহ অতীত জেনেও তোমাকে সত্যিকারের ভালোবেসেছি। তোমাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেছিলাম- আমাদের ছোট্ট একটা সংসার হবে, সুন্দর একটা ভবিষ্যৎ গড়ে তুলব আমরা।
কীভাবে পারলে তুমি? একবারও কী আমার কথা মনে পড়েনি? আমাদের কাটানো মুহূর্তগুলো কী একবারও মনে হয়নি? আমরা ঝগড়া করেছি, কষ্ট পেয়েছি, তবুও তো একসময় ভালোবাসতে ছাড়িনি।
শ্রাবন রহমান জিতু, আমি তোমাকে সত্যিই ভালোবেসেছি। তুমিই ছিলে আমার শেষ ভালোবাসা। মা-ভাই, তোমরা সবসময় আমাকে আগলে রাখতে চেয়েছ। কিছু কথার জন্য আমি কখনোই তোমাদের ক্ষতি চাইনি। তোমরা আমাকে মাফ করে দিও। শ্রাবন রহমান জিতু-ই আমার শেষ ভালোবাসা। তোমার সঙ্গে কাটানো দিন-রাতগুলো আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সত্য ছিল। মাত্র এক মাস আমরা সংসারের মতো একটা জীবন কাটিয়েছিলাম- আজ তুমি অন্য কারো। আজ থেকে তুমি মুক্ত শ্রাবন রহমান জিতু। তবুও ভালোবাসা থেকে যাবে।- অহনা
২৯.০৪.২০২৬”
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধারকৃত চিরকুটটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে।

মো. আব্দুল্লাহ হক, চুয়াডাঙ্গা (সদর-আলমডাঙ্গা)