কুমিল্লায় ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টি : ডুবল নগরী, জনজীবনে চরম ভোগান্তি
কুমিল্লায় কালবৈশাখী ঝড় ও ১০২ মিলিমিটার রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতে নগরজুড়ে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তলিয়ে গেছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি ও ফসল। মৌসুমের শুরুতেই এমন পরিস্থিতিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।
আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত টানা বর্ষণে কুমিল্লা নগরীর ঝাউতলা, রেসকোর্স ও কান্দিরপাড়সহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে যায়। অনেক বাসাবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়েছে। স্কুল-কলেজ ছুটির পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কোমর সমান পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে ফিরতে দেখা গেছে। এই সুযোগে রিকশা ও অটোরিকশা চালকরা দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
কান্দিরপাড় এলাকার বাসিন্দা ওবায়দুল হক জানান, ড্রেন ও খালে বিপুল প্লাস্টিক বোতল ও বর্জ্য জমে থাকায় পানি সরতে পারছে না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই নগরী স্থবির হয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে কুমিলস্নাহ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ চলছে। তবে ড্রেনে বর্জ্য ফেলার বিষয়ে তিনি নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
বুড়িচং ও নাঙ্গলকোটসহ বিভিন্ন উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ে গাছ উপড়ে পড়ে বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
কুমিলস্নাহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মিজানুর রহমান জানান, বাতাসের তোড়ে ধানসহ অন্যান্য শাক-সবজির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ করছেন।
কুমিল্লা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। কালবৈশাখীর এই প্রভাব আরও কিছু সময় থাকতে পারে।

মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা